নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। বহু নাগরিকের দাবি, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ওঠেনি। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ (Tribunal) আমজনতার শেষ ভরসা। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনাল ঠিক কী এবং কীভাবে আপনি আপনার ভোটাধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই লড়তে পারেন, তা জেনে রাখা জরুরি।
ট্রাইব্যুনাল কী এবং এর কাজ কী?
সহজ কথায়, ট্রাইব্যুনাল হলো একটি বিশেষ আদালত যা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তৈরি হয়। ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে:
-
পুনর্বিবেচনা: যাঁদের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Scrutiny) ছিল কিন্তু তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা এখানে আবেদন করতে পারেন।
-
নথি যাচাই: ব্লক লেভেলে বা বিএলও-র (BLO) কাছে নথি জমা দিয়েও কাজ না হলে, ট্রাইব্যুনালের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সামনে আপনি পুনরায় প্রমাণ পেশ করতে পারবেন।
-
দ্রুত নিষ্পত্তি: সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এই বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে ভোটের আগেই ফয়সালা সম্ভব হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও আপনার আইনি ধাপ:
১. ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ: প্রথম ধাপে, ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল (NVSP) বা ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ থেকে আপনার আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস বা রিজেকশন স্লিপের স্ক্রিনশট বা প্রিন্টআউট নিয়ে রাখুন। কেন নাম বাদ গেল, তার কারণ জানা জরুরি। ২. ট্রাইব্যুনালে আপিল: যদি আপনার কাছে আধার, প্যান, রেশন কার্ড বা জমি-বাড়ির বৈধ নথি থাকে, তবে আপনি নিকটবর্তী ট্রাইব্যুনাল অফিসে (যেমন কলকাতার ক্ষেত্রে বেহালার নির্দিষ্ট কেন্দ্র) গিয়ে আপিল ফর্ম জমা দিতে পারেন। ৩. প্রাকৃতিক বিচার (Natural Justice): সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কারোর নাম কাটার আগে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। যদি কমিশন আপনাকে নোটিশ না দিয়ে নাম কেটে থাকে, তবে সেটি আইনের পরিপন্থী। ট্রাইব্যুনালে আপনি এই পয়েন্টটি তুলে ধরতে পারেন। ৪. আদালত অবমাননার মামলা: যদি ট্রাইব্যুনাল আপনার নথিতে সন্তুষ্ট হয়েও নাম তোলার নির্দেশ না দেয় বা কালক্ষেপ করে, তবে আইনজীবী মারফত হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে ‘কন্টেম্পট অফ কোর্ট’ বা আদালত অবমাননার মামলা করার অধিকার আপনার রয়েছে।
মনে রাখুন কিছু জরুরি তথ্য:
-
সময়সীমা: প্রথম দফার ভোটের তালিকা চূড়ান্ত বা ‘ফ্রিজ’ হওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া সারতে হবে। বর্তমান জটিলতার কারণে সুপ্রিম কোর্ট এই সময়সীমা বাড়াতে পারে কি না, সেদিকে নজর রাখুন।
-
ভোট দেওয়ার বিকল্প: যদি ভোটের দিন পর্যন্ত নাম না ওঠে, তবে ‘চ্যালেঞ্জ ভোট’ বা ‘টেন্ডারড ব্যালট’ (Tendered Ballot)-এর মতো কিছু আইনি সংস্থান থাকলেও, তার প্রয়োগ বেশ জটিল। তাই তালিকার লড়াইটাই আসল।
ভোটাধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার। নথিপত্র সঠিক থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করলেই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আপনার দাবি পেশ করুন।