নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রণসজ্জা শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। বেনজির পদক্ষেপে আগামী ১ মার্চ থেকেই বাংলায় পা রাখছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সচরাচর ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, এবার কার্যত নজিরবিহীনভাবে বিপুল সংখ্যক আধাসেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর কমিশন জানিয়েছে, দু’টি দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হবে রাজ্যকে।
প্রথম দফায় অর্থাৎ ১ মার্চের মধ্যেই রাজ্যে আসছে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। যার সিংহভাগ অর্থাৎ ১১০ কোম্পানিই থাকছে সিআরপিএফ। এছাড়া বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র জওয়ানেরাও থাকছেন এই তালিকায়। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নবান্ন সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই এই বার্তা পৌঁছেছে। রাজ্যের কোথায় কত কোম্পানি বাহিনী থাকবে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা এলাকা দখলের কাজে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ নজর থাকছে রাজ্যের সাতটি অতি স্পর্শকাতর জেলার ওপর। কমিশনের নথিতে হিংসার ইতিহাস বিচার করে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমকে বিশেষ তালিকায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ও গোলমালপ্রবণ এই জেলাগুলিতেই প্রথম দফায় বাহিনীর আধিক্য দেখা যাবে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, সাধারণ মানুষের মনোবল বৃদ্ধি এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই আগাম মোতায়েন। তবে ভোট ঘোষণার আগেই এত বিপুল পরিমাণ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি এতটাই উদ্বেগজনক যে এত আগেভাগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হচ্ছে, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও সমীকরণ কাজ করছে— তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।