নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নজিরবিহীন তৎপরতা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারের পর এবার দুঁদে আইএএস সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta) নির্বাচনী পর্যবেক্ষক বা ইলেকশন অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দিল কমিশন। এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের ওপর নজরদারির পাশাপাশি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার রাজ্য সফরের শেষ দিনে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মুখ্য সচিবের দাবিদার থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক: সুব্রত গুপ্ত ছিলেন ১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। প্রশাসনিক মহলে তাঁর সুনাম সুবিদিত। একটা সময় সিনিয়রিটির বিচারে রাজ্যের মুখ্য সচিব পদের অন্যতম জোরালো দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছিল তাঁর নাম। এবার সেই অভিজ্ঞ আমলার ওপরই আস্থা রাখল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআর পর্ব শুরুর মুখেই তাঁকে ‘স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার’ নিয়োগ করা হয়েছিল। এবার তাঁর কাঁধে বর্তাল নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের বড় দায়িত্ব।
কী কী দায়িত্ব সামলাবেন সুব্রত গুপ্ত? কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুব্রত গুপ্তর কাজের পরিধি হবে বেশ বিস্তৃত:
-
ভোটার তালিকায় কড়া নজর: রাজ্যজুড়ে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)-র ওপর সরাসরি নজরদারি চালাবেন তিনি। কোনও যোগ্য নাগরিক যেন বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর মূল কাজ।
-
সরাসরি দিল্লিকে রিপোর্ট: গ্রাউন্ড লেভেলের প্রতিটি ইনপুট এবং পর্যবেক্ষণের রিপোর্ট তিনি সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠাতে পারবেন।
-
প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ: কোনও আধিকারিককে তিনি নিজে থেকে শংসাপত্র দিতে পারবেন না। তবে কেউ প্রশংসনীয় কাজ করলে বা কোনও ত্রুটি দেখা দিলে, তিনি সরাসরি কমিশনের কাছে সুপারিশ পাঠাবেন।
কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি: এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংগঠনের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোটই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। ডিএম ও পুলিশকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কাজে গাফিলতি দেখলে কেবল ‘বদলি’ নয়, বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস শুরু করা হবে। এই কড়াকড়ির আবহে সুব্রত গুপ্তর নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।