নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ সড়ক যেন কঙ্কালসার এক পথ! দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এবার আন্দোলনে নামলেন ময়নাগুড়ির বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ খাগড়াবাড়ি এলাকার ৩৯ নম্বর বুথের বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে পথ অবরোধ করেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ— সকলেই এদিন বিক্ষোভে শামিল হন। তবে এই আন্দোলনের সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, খোদ তৃণমূল শাসিত ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রতিমা দাসও গ্রামবাসীদের এই বিক্ষোভকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন।
দুর্ভোগের নিত্যসঙ্গী: খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জল্পেশ, সাপটিবাড়ি থেকে শুরু করে ময়নাগুড়ি শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই পথটি। রাস্তার ধারে রয়েছে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়। অথচ বোল্ডার বিছানো রাস্তায় হাঁটাচলাই দায়। স্থানীয় বাসিন্দা রত্না সরকার ও জগদীশ সরকারদের অভিযোগ, বোল্ডার বেরিয়ে থাকা রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। টোটো উল্টে যাচ্ছে, সাইকেল নিয়ে স্কুল যাওয়ার পথে পড়ুয়ারা পড়ে জখম হচ্ছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করলেও প্রশাসনের হেলদোল নেই বলেই দাবি স্থানীয়দের।
শাসক দলের অন্দরেই ক্ষোভ: পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য প্রতিমা দাস এদিন গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “গ্রামবাসীদের দাবি একদম ন্যায্য। আমি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কেন কাজ হচ্ছে না জানি না। আমি নিজেও এই পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ।” অর্থাৎ রাস্তা সংস্কারের প্রশ্নে প্রশাসনের গড়িমসি নিয়ে এবার খোদ পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিও বিদ্রোহী মেজাজে।
প্রশাসনের আশ্বাস ও হুঁশিয়ারি: বাসিন্দাদের সাফ হুঁশিয়ারি, বিধানসভা ভোটের আগে যদি রাস্তা পিচ দিয়ে সংস্কার না করা হয়, তবে তাঁরা এই পথে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেবেন। ভোটের বাক্সেও এর প্রভাব পড়বে বলে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুমুদরঞ্জন রায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন, “ব্লকজুড়ে প্রচুর রাস্তার কাজ চলছে। ওই রাস্তাটির কাজও দ্রুত শুরু হবে।” এখন দেখার, ভোটের দামামা বাজার আগে দক্ষিণ খাগড়াবাড়ির এই রাস্তার ভাগ্য ফেরে কি না।