নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে বড়সড় চাল চাললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আবহে তিনি ঘোষণা করলেন, মার্চ মাস থেকেই সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) মিটিয়ে দেওয়া শুরু হবে। শুধু ডিএ নয়, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগে পুরোহিত ও মোয়াজ্জেনদের মাসিক ভাতাও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করছিলেন, তখনই এই ‘টাইমিং’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকেই জানতে চাওয়া হয়, ভোট ঘোষণার ঠিক আগে এই ধরনের আর্থিক ঘোষণা কি নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করে না? জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সাফ জানিয়ে দেন, “আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয় কমিশন সংবাদ সম্মেলন শুরু করার মুহূর্ত থেকে। তার আগে রাজ্য সরকার যে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা করার অধিকারী। ফলে এই ঘোষণা আচরণবিধির পরিপন্থী নয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন, “আমাদের মা-মাটি-মানুষ সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পেনশনার ও অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মার্চ মাস থেকেই বকেয়া টাকা পাওয়া শুরু করবেন।”
বিরোধী শিবির অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ‘নির্বাচনী চমক’ বলে দেগে দিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের তোপ, “মানুষ এর জবাব দেবে। এক সম্প্রদায়কে তুষ্ট করে অন্যকে ধ্বংস করার রাজনীতি চলছে।” অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আসলে এক পয়সাও দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই, কারণ এর জন্য কোনও আলাদা তহবিল তৈরি করা হয়নি। শেষবারের মতো জনগণকে বোকা বানানোর অপচেষ্টা চলছে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং এসআইআর (SIR) ইস্যুতে তৈরি হওয়া বিতর্ক সামাল দিতেই ভোটের ঠিক আগে এই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মমতা। এখন দেখার, ব্যালট বক্সে এর প্রতিফলন কতটা পড়ে।