নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল ও কড়াকড়ি শুরু করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteers) ওপর কোপ পড়ল। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ— ভোটের কোনও কাজে বা ডিউটিতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের রাখা যাবে না। শনিবার এই সংক্রান্ত একটি ১৩ দফার লিখিত নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং কমিশনারদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও সিভিক ভলান্টিয়ারকে ভোটকেন্দ্র বা তার আশেপাশে ডিউটি দেওয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, যদি দেখা যায় কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নির্দেশ পাওয়ার পরই কলকাতা পুলিশ-সহ রাজ্যের সমস্ত কমিশনারেটে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (হোমগার্ড) ইতিমধ্যেই সমস্ত ডিভিশনকে এই নির্দেশ কার্যকর করার বার্তা দিয়েছেন।
নজরদারিতে ১৩ দফা নির্দেশিকা:
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:
-
অফিসারদের ‘রিজার্ভ’ তালিকা: নির্বাচনের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব জেলার ডিএম ও এসপি-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানার ওসি (OC) এবং রিটার্নিং অফিসারদের একটি অতিরিক্ত বা ‘রিজার্ভ’ তালিকা তৈরি রাখতে। কোনও আধিকারিককে বিতর্ক বা গাফিলতির কারণে সরিয়ে দেওয়া হলে যাতে দ্রুত ওই শূন্যপদ পূরণ করা যায়, তার জন্যই এই আগাম ব্যবস্থা।
-
অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের অপসারণ: কোনও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার বা সিভিল অফিসার যদি এখনও নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকেন, তবে তাঁদের অবিলম্বে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
-
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে যাতে কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে জেলা স্তরের কর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কমিশনের এই কড়া অবস্থান বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের দিন বুথ চত্বরে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে, সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রবেশাধিকার থাকবে না।