নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে রাজ্যে ভিন রাজ্য থেকে আসা নকল মদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে আবগারি দপ্তর ব্যবহার শুরু করেছে ‘টকিং পেন’ (Talking Pen)। সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যে নাকা তল্লাশি চলছে, সেখানে এখন এই পেনই হয়ে উঠেছে আধিকারিকদের প্রধান অস্ত্র। মদের বোতলের লেবেলে থাকা হলোগ্রামটি আসল না নকল, তা নিমিষেই বলে দিচ্ছে এই যন্ত্র।
আসল-নকল চেনার ‘জাদুদণ্ড’:
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে চোরাপথে ভিন রাজ্য থেকে কম দামে মদ নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে পাচারকারীরা। সেই সব মদের বোতলে লাগানো থাকছে হুবহু আসল মদের মতো লেবেল। এই কারবার রুখতেই ১১০০টি ‘টকিং পেন’ কিনেছে আবগারি দপ্তর।
-
কীভাবে কাজ করে: মদের বোতলের গায়ে থাকা বিশেষ হলোগ্রামটি নকল করা কার্যত অসম্ভব। এই টকিং পেনটি হলোগ্রামের ওপর ছোঁয়ালেই একটি বিশেষ সিগন্যাল বা শব্দের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় সেটি আসল কি না।
-
মোতায়েন: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি কৌশলগত নাকা পয়েন্টে (Strategic Naka Points) বুধবার থেকেই এই পেন পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
রাজস্ব রক্ষা ও কড়া নজরদারি:
রাজ্যের আবগারি দপ্তর সূত্রের খবর, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে মদ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব প্রায় ১৯ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। নকল মদের কারবার চললে রাজ্যের এই বিপুল রাজস্ব ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই ছিদ্রপথ বন্ধ করতে চাইছে প্রশাসন। এর আগে মদের দোকানদারদের এই যন্ত্র কেনার নির্দেশ দেওয়া হলেও, এবার সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপে নাকা তল্লাশিতে এর ব্যবহার নজরদারির মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আটক বিপুল পরিমাণ মদ:
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মার্চ থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে কালিম্পং, সিঙ্গুর এবং ডালখোলার মতো সীমান্ত এলাকাগুলি থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার লিটার বেআইনি মদ উদ্ধার হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এই বিশাল পরিমাণ অবৈধ মদ আমদানির পেছনে কোনও বড়সড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ডালখোলা বা সিঙ্গুরের মতো এলাকাগুলি দিয়ে ভিন রাজ্যের মদ ঢোকা রুখতে এই ‘টকিং পেন’ অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছে আবগারি দপ্তর।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে ভোটের মুখে চোরাকারবারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আবগারি দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, “প্রযুক্তিকে ঢাল করে আমরা জালিয়াতদের ছক ভেস্তে দিতে তৈরি। এই পেন চালু হওয়ায় নকল মদ চিহ্নিত করা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”