নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে লোকসভা ভোটের বাদ্যি বাজার পরেই আবার ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০২০ সালে কোভিড আবহে রেশনের গম বাংলাদেশে পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলায় শুক্রবার কাকভোর থেকে অভিযানে নামলেন আধিকারিকরা। কলকাতা, হাওড়া, বনগাঁ এবং মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের মোট ১৫টি জায়গায় এই ম্যারাথন তল্লাশি চলে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর হঠাৎ এই সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই মোদী-শাহের নির্দেশে এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, এদিনের অভিযানে সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে।
এই মামলার শিকড় লুকিয়ে আছে ২০২০ সালের লকডাউন পর্বে। সেই সময় উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে রেশনের গম বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। ডিআরআই ও কাস্টমস যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫,১০০ মেট্রিক টন গম বোঝাই ১৭৫টি লরি আটক করেছিল। তদন্তে জানা যায়, সরকারি মিলগুলিতে আটা তৈরির জন্য যে গম পাঠানো হয়েছিল, তার একটা বড় অংশ বস্তা বদলে সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছিল। ইডি পরে এই মামলার তদন্তভার নিলেও গত কয়েক বছর তেমন কোনও বড় পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ভোটের ঠিক আগে সেই ঘুমন্ত মামলা ঘিরেই ফের তৎপরতা শুরু করল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
শুক্রবার সকালে কলকাতার পোদ্দার কোর্টে একটি ফুড প্রোডাক্টের অফিসে হানা দেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি মিন্টো পার্কের এক ব্যবসায়ী এবং রানিগঞ্জের দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। বাদ যায়নি বনগাঁর এক হোটেল মালিকের ঘরও। ইডির দাবি, এই ব্যবসায়ীদের চাল ও গমের কল বা মিল রয়েছে। সরকারি গম থেকে আটা তৈরি করে রেশনে পাঠানোর বদলে তাঁরা তা বাংলাদেশে পাচার করে দিয়েছিলেন। পরিবর্তে রেশনে অত্যন্ত নিম্নমানের কাঁকর মেশানো আটা সরবরাহ করা হয়েছিল, যা পরে ঘুরপথে ফের মিল মালিকদের কাছেই চলে আসে। এই দুর্নীতির বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে।
এদিনের তল্লাশিতে কলকাতার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ এবং অন্য দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে যথাক্রমে ১১ লক্ষ ও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বনগাঁর একটি হোটেল থেকেও প্রচুর নগদ ও গয়না মিলেছে বলে খবর। একই সঙ্গে হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছে আয়কর দফতরও। তল্লাশি শেষে বিপুল পরিমাণ নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছেন আধিকারিকরা। নির্বাচনের মুখে রেশন দুর্নীতি নিয়ে ইডির এই নতুন ‘অপারেশন’ যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।