নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ প্রশাসনে নির্বাচন কমিশনের ‘বদলি-বোমা’ যেন থামবার নামই নিচ্ছে না। এবার রাজ্যের আরও ছয় জন দুঁদে আইএএস (IAS) অফিসারকে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দিল কমিশন। এই তালিকায় রয়েছেন রাজ্য সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ সচিবও। বৃহস্পতিবারই জারি হওয়া নির্দেশিকায় প্রীতি গোয়েল, সিয়াদ এন, অরবিন্দ কুমার মিনা, রানি এ আয়েশা, পি উলাগানাথন এবং শামা পরভীনকে অবিলম্বে তামিলনাড়ুতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ১৫ জন আইপিএস (IPS) আধিকারিককে দক্ষিণ ভারতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তবে সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে সেই তালিকায় থাকা পাঁচ আইপিএস-এর ক্ষেত্রে নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। বাকি ১০ জন পুলিশ কর্তাকে অবশ্য কেরল ও তামিলনাড়ুর পথেই পা বাড়াতে হচ্ছে। নজিরবিহীন এই গণ-বদলির আবহে বৃহস্পতিবারই সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও কেন এখনও অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হল না? জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) ঘনঘন বদলে ভোটারদের অভিযোগ জানানোর সময় কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। চিঠিতে মমতা সাফ লিখেছেন, “এটা কি গণতন্ত্রের প্রহসন নয়?” পাশাপাশি, মার্চ-এপ্রিলের কালবৈশাখী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অভিজ্ঞ আধিকারিকদের অভাব রাজ্যকে বিপাকে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারই রাজভবনে নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিকেলে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল। আসন্ন ইদ ও রামনবমী যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ নিয়ে কোনও ফাঁক না থাকে, সেই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, আধিকারিকদের ভিন রাজ্যে পাঠানো এবং নবান্ন বনাম কমিশনের এই সংঘাত এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।