নিউজ ডেস্ক: দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে চলছে পুলিশের কড়া নজরদারি। আর সেই নজরদারিতেই এবার বড়সড় সাফল্য পেল লালবাজার। শনিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগর এলাকায় নাকা তল্লাশি চালানোর সময় একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত হওয়া টাকার পরিমাণ ৩৭ লক্ষ ৯৭ হাজার। হাওলার মাধ্যমে এই টাকা পাচার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান গোয়েন্দাদের। ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি আয়কর দফতরকে জানানো হয়েছে।
৫০০ টাকার নোটের ‘বান্ডিল’ ও সন্দেহভাজন গাড়ি
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্পেশাল স্ট্যাটিক টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নাকা চেকিং চালাচ্ছে পুলিশ। শনিবার রাতে এনএসসি বোস রোডের ওপর একটি সন্দেহভাজন গাড়িকে আটকানো হয়। তল্লাশি চালাতেই গাড়ির ভিতর থেকে ৫০০ টাকার নোট ভর্তি একটি বড় ব্যাগ নজরে আসে পুলিশ আধিকারিকদের। টাকার সপক্ষে কোনও বৈধ নথি বা প্রমাণ গাড়ির চালক দেখাতে না পারায় তড়িঘড়ি পুরো টাকাটিই বাজেয়াপ্ত করা হয়।
আলিপুর যোগ ও হাওলার জাল
তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, আলিপুর এলাকা থেকে এই টাকা তোলা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল মাঝরাস্তায় অন্য এক ব্যক্তির হাতে এই ব্যাগটি তুলে দেওয়ার। পুলিশের দাবি, জনৈক এক হাওলা ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ওই ব্যবসায়ী ও প্রাপকের নাম ইতিমধ্য়েই পুলিশের হাতে এসেছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রশাসনের তৎপরতা
নির্বাচনের মুখে ভিন রাজ্য থেকে রাজ্যে টাকা ঢোকানোর অভিযোগ বারংবার শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। এমনকি সিআরপিএফ-এর গাড়িতে করে টাকা পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এই আবহে নেতাজিনগরে নগদ উদ্ধারের ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আয়কর দফতরের আধিকারিকরা এখন এই টাকার উৎস ও প্রকৃত মালিকের সন্ধান চালাচ্ছেন। বাজেয়াপ্ত অর্থ নির্বাচনের কোনও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।