নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভূপতিনগর বিস্ফোরণ মামলা নিয়ে ফের নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মানব পড়ুয়াকে নোটিস পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার এনআইএ অফিসে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই নোটিস হাতে পাওয়ার পর মানববাবু জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে হাজিরা দেবেন। কাকতালীয়ভাবে, আজই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে, এনআইএ দপ্তর থেকে ফিরে সেখানেও যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।
ভূপতিনগর বিস্ফোরণ ও তদন্তের নেপথ্যে:
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর। ভূপতিনগর থানার নাড়ুয়াবিলা গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাজকুমার মান্নার বাড়িতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
-
প্রাণহানি: ওই বিস্ফোরণে রাজকুমার মান্না-সহ তিন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
-
এনআইএ হানা: এই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল নাড়ুয়াবিলা ও নীচনাড়ুয়া গ্রামে হানা দেয় এনআইএ। সেখান থেকে মনোব্রত জানা ও বলাইচরণ মাইতিকে গ্রেপ্তার করার সময় গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে, জখম হন আধিকারিকরা।
মানবের আইনি লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে মানব পড়ুয়া ও নবকুমার পন্ডার। বর্তমানে জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানববাবু এর আগে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু ভোট প্রচারের মাঝপথে ফের তাঁকে তলব করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
‘বিজেপির চক্রান্ত’, সরব তৃণমূল:
প্রার্থীকে এনআইএ-র এই তলবকে সরাসরি ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “বিজেপি বুঝতে পেরেছে এই নির্বাচনে তাদের হার নিশ্চিত। তাই পরাজয় রুখতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে লেলিয়ে দিয়ে তৃণমূল প্রার্থীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত।”
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি—এনআইএ একটি স্বাধীন সংস্থা এবং তারা আদালতের নির্দেশেই পুরনো মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। প্রচার ফেলে রেখে বৃহস্পতিবার প্রার্থীর এনআইএ অফিসে হাজিরা দেওয়ার ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।