নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডের হাইভোল্টেজ সভার আগে বাংলার জন্য বড়সড় উপহারের ঝুলি সাজালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রায় ৪,৪৭৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে সিলমোহর দিয়েছে। তবে একদিকে যখন উন্নয়নের ডালি সাজানো হচ্ছে, অন্যদিকে তখন নিরাপত্তার কড়াকড়িতে খাস ব্রিগেডের ময়দানেই ছন্দপতন। প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় থাকা এসপিজি (SPG) কর্তাদের নির্দেশে খুলে ফেলতে হল মূল সভামঞ্চের কাঠামো।
রেলে জোড়া ধামাকা: এদিন মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ১৯২ কিলোমিটারের মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুটি রুট: ১. সাঁইথিয়া – পাকুড় চতুর্থ লাইন ২. সাঁতরাগাছি – খড়গপুর চতুর্থ লাইন প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলি পূর্ব ভারতে রেলের সক্ষমতা বাড়াবে এবং ভিড় কমাবে। রেল সূত্রের খবর, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বোলপুর-শান্তিনিকেতন, তারাপীঠ ও শক্তিপীঠ নন্দীকেশ্বরী মন্দিরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুগম হবে। প্রায় ১৪৭ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাবেন।
ব্রিগেডে নিরাপত্তার কড়াকড়ি: শনিবারের সভার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখনই এসপিজি কর্তারা সভাস্থল পরিদর্শন করে মূল মঞ্চটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, যেখানে মঞ্চটি বাঁধা হয়েছে, সেখানকার মাটির নীচে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাটির কয়েক ফুট গভীর পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে দেখে নিতে চান গোয়েন্দারা যে, সেখানে কোনও নাশকতার ছক বা বিস্ফোরক লুকিয়ে আছে কি না। নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে মঞ্চ রাখা সম্ভব নয় বলেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সময়ের সঙ্গে লড়াই: গত রবিবার থেকেই ব্রিগেডের মাঠ সাজানোর কাজ শুরু করেছিল বিজেপি। বিশাল হ্যাঙারের নীচে মঞ্চের কাঠামো প্রায় দাঁড়িয়েও গিয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ সেই কাঠামো খোলার নির্দেশে রীতিমতো রক্তচাপ বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। হাতে সময় মাত্র তিন দিন। এই অল্প সময়ে নতুন করে মঞ্চ গড়ে তোলা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মূল পরিকাঠামো ঠিক থাকলে মঞ্চ বাঁধতে খুব বেশি সময় লাগবে না। মাঠের ব্যারিকেড ও ব্লকিংয়ের কাজ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।