নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহানগরীর নিরাপত্তা আঁটসাঁট করতেই বেরিয়ে এল বড়সড় ‘অস্ত্র-যোগ’। বুধবার দুপুরে খাস কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোড এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ (STF)। ধৃতের নাম মহম্মদ ইউসুফ, সে বিহারের নালন্দার বাসিন্দা। তার ব্যাগ থেকে তিনটি দেশি বন্দুক, দুটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং অন্তত ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটের আগে এই বিপুল অস্ত্র কার কাছে পৌঁছনোর কথা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
শৌচালয়ে ওত পেতেছিল এসটিএফ
এসটিএফ সূত্রে খবর, বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এক দুষ্কৃতী কলকাতায় ঢুকেছে বলে গোপন সূত্রে খবর পান আধিকারিকরা। এর পরেই বিহারের বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবসায়ীর ফোন ট্র্যাকিং শুরু করেন গোয়েন্দারা। জানা যায়, নির্দিষ্ট এক যুবক বাসে করে ধর্মতলায় নামার পর ক্যানিং স্ট্রিটের কাছে স্ট্র্যান্ড রোডের একটি শৌচালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। দেরি না করে এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল সেখানে হানা দেয়। ইউসুফকে আটক করে তার ব্যাগ তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে অত্যাধুনিক পিস্তল ও কার্তুজের বান্ডিল।
কমিশনের চক্করে কুরিয়ার সার্ভিস
ধৃত ইউসুফকে জেরা করে বিস্ফোরক সব তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দারা জেনেছেন, বিহারের এক বড় মাপের অস্ত্র কারবারি তাকে এই কাজের জন্য নিয়োগ করেছিল। প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমিশন পেত সে। ধর্মতলায় নামার পর কলকাতার এক ‘লিঙ্ক-ম্যান’-এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল তার। ধৃতের মোবাইল থেকে বিহারের একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীর নম্বর পাওয়া গিয়েছে। এসটিএফ-এর দাবি, এর আগেও বেশ কয়েকবার সে এভাবেই কলকাতায় অস্ত্র পৌঁছে দিয়ে গিয়েছে।
ভাটপাড়াতেও ধৃত এক
মহানগরীর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল ভাটপাড়াতেও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে বিবেক সাউ ওরফে ডোমা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকেও একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ভোটের আগে এভাবে অস্ত্র মজুত করার নেপথ্যে কোনও বড়সড় নাশকতার ছক বা রাজনৈতিক অশান্তি পাকানোর উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।