নিউজ ডেস্ক: বহু জল্পনা আর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার বাংলায় শুরু হচ্ছে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। ১৫২টি আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্যপরীক্ষা হবে আজ। তবে ভোট শুরুর সকালেও কমিশন আর শাসক দলের মধ্যে তুঙ্গে উঠেছে সংঘাত। অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার পরও পরিকাঠামোর অভাবে সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারেনি। ফলে একরাশ ক্ষোভ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতেই আজ বুথমুখী হচ্ছে বাংলা।
ভোটের সংখ্যাতত্ত্ব ও কমিশনের চ্যালেঞ্জ: কমিশন সূত্রে খবর, আজ ভোটদানের জন্য নাম নথিভুক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জনের। তবে এই সংখ্যাটি আরও অন্তত ৩৮ লক্ষ বেশি হতে পারত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইব্যুনালে বিপুল সংখ্যক নাগরিক নাম নথিভুক্তির আবেদন জানালেও প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে মাত্র ৬৫০টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ১৩৯ জনের।
তৃণমূলের তোপ ও কমিশনের পাল্টা: তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, “কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাইব্যুনালকে পরিকাঠামো দেয়নি। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নথি নিষ্পত্তির জন্য লগ-ইন আইডি দিতেও ঢের সময় নেওয়া হয়েছে। এটা ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এক ঘৃণ্য কৌশল।” যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল দাবি করেছেন, ট্রাইব্যুনালের কাজে কমিশন কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। তবে কেন মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি হলো, সে বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি।
নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি: প্রথম দফার ভোট নির্বিঘ্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে কমিশন। আড়াই লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টারের পাশাপাশি প্রতিটি বুথে থাকছে ওয়েব কাস্টিংয়ের সুবিধা। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন ভোটপর্ব চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কমিশন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে, কোথাও কোনও ‘বেচাল’ বা অশান্তি দেখলে তৎক্ষণাৎ সেই বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হবে।
বাতিল হতে পারে প্রার্থীপদ! ভোটের সকালেই কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ চলাকালীন প্রচার চালানোর দায়ে কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থীপদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, কড়া পাহারা আর রাজনৈতিক অভিযোগের এই টানাপড়েনের মধ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণ হয়।