নিউজ ডেস্ক: রবিবার বিকেলে পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে এ বঙ্গেও বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। আর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ সর্বত্র কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি)। সরকারি ক্ষমতা বা অর্থের অপব্যবহার রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট প্রচারের কাজে কোনও মন্ত্রী তাঁর সরকারি গাড়ি বা নিরাপত্তা ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি সরকারি খরচে কোনও বিজ্ঞাপন বা প্রকল্পের প্রচারও এখন থেকে নিষিদ্ধ।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল সরকারি ভবন বা সম্পত্তির অপব্যবহার করতে পারবে না। প্রচারের ময়দান যাতে সকলের জন্য সমান থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার মন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের সীমারেখা আরও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও মন্ত্রী যদি তাঁর সরকারি কাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারকে গুলিয়ে ফেলেন, তবে কমিশনের কোপে পড়তে পারেন তিনি।
আচরণবিধি সঠিক ভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য ৫,১৭৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,২০০টি স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (SST) নিয়োগ করেছে কমিশন। সাধারণ মানুষের জন্য হাতিয়ার হিসেবে থাকছে ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপ ও হেল্পলাইন নম্বর ১৯৫০। কমিশনের দাবি, কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা পড়লে ১০০ মিনিটের মধ্যে তার সুরাহা করতে হবে ফ্লাইং স্কোয়াডকে।
রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের জন্য পুলিশের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া বিধিনিষেধ। এছাড়া কোনও মাঠ বা হেলিপ্যাড ব্যবহারের জন্য ‘সুবিধা’ পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতেই অনুমতি মিলবে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে কমিশনের কড়া বার্তা— কাজ করতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে। পক্ষপাতিত্বের বিন্দুমাত্র অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবে কমিশন।