নিউজ ডেস্ক: রবিবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। আর নিয়ম মেনে নির্বাচন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এবার বিজ্ঞপ্তি জারির অনেক আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন থানায় আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বারুইপুর, ডায়মন্ড হারবার ও সুন্দরবন পুলিশ জেলা মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ৫১৭টি বন্দুক জমা পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোট ঘোষণার পর সাধারণ নাগরিক বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত লাইসেন্সড বন্দুক নিকটবর্তী থানায় জমা রাখা বাধ্যতামূলক। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অনেকেই জানুয়ারী বা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আগাম অস্ত্র জমা দিয়ে দিয়েছেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
-
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা: ২৯৬টি অস্ত্র জমা পড়েছে।
-
বারুইপুর পুলিশ জেলা: জমা পড়েছে ১৪৫টি বন্দুক।
-
সুন্দরবন পুলিশ জেলা: ৬০টি অস্ত্র জমা হয়েছে।
-
কলকাতা পুলিশ এলাকা (দক্ষিণ অংশ): ১৬টি বন্দুক জমা পড়েছে।
পুলিশ মহলের দাবি, গত সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তাতেও এই আগাম অস্ত্র জমার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। যাঁদের অস্ত্রের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ (Renewal) করার সময় এসেছে, তাঁদের অনেকেই ঝামেলা এড়াতে আগেই অস্ত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। আবার বহু বনেদি বাড়ির সদস্য তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী পুরনো বন্দুকগুলিও নিয়ম মেনে থানায় দিয়ে গিয়েছেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের নিরাপত্তারক্ষী, জাতীয় স্তরের শ্যুটার এবং জনপ্রতিনিধিদের সরকারি দেহরক্ষীদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ সাপেক্ষে অস্ত্র জমা না দেওয়ার অনুমতি রয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের মতে, বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর আরও কিছু আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়ার কথা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ অস্ত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।