নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক আদালত চত্বরে ছড়াল তীব্র বোমাতঙ্ক। কলকাতার নগর দায়রা আদালত থেকে শুরু করে আসানসোল জেলা আদালত, দুর্গাপুর মহকুমা আদালত এবং চুঁচুড়া— সর্বত্রই ধরা পড়ল একই ছবি। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির উড়ো ফোনের জেরে মুহূর্তের মধ্যে খালি করে দেওয়া হয় আদালত কক্ষ। আতঙ্কে আইনজীবী থেকে বিচারপ্রার্থী, সকলেই কাজ ফেলে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি থমকে যাওয়ায় ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে।
আসানসোল জেলা আদালতে প্রথম উড়ো ফোনটি আসতেই জেলা বিচারকের নির্দেশে গোটা চত্বর ফাঁকা করে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াড ও পুলিশকে। স্নিফার ডগ নিয়ে আদালতের প্রতিটি ঘরে চিরুনি তল্লাশি চালান বিশেষজ্ঞরা। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে শিল্পশহর দুর্গাপুরেও। সেখানেও আতঙ্কে আদালতের কর্মী ও আইনজীবীরা কাজ ফেলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতির তদারকি করেন।
রাজধানী কলকাতাও বাদ পড়েনি এই উড়ো ফোনের তালিকা থেকে। নগর দায়রা আদালতে বোমাতঙ্ক ছড়াতেই হুলস্থুল পড়ে যায় লালবাজারের অন্দরে। পুলিশ দ্রুত পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে আদালতের প্রতিটি তলায় তল্লাশি চালানো হয়। হুগলির চুঁচুড়া আদালতেও একই ভাবে বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তার খাতিরে সাধারণ মানুষের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
একের পর এক আদালতে এই সুপরিকল্পিত হুমকির নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্রেফ আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সাইবার সেলের গোয়েন্দারা উড়ো ফোনের উৎস এবং লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিনভর এই বোমাতঙ্কের জেরে রাজ্যের বিচারবিভাগীয় কাজকর্মে বড়সড় বিঘ্ন ঘটে।