নিউজ ডেস্ক: ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে এখন ভক্তের ঢল। মতুয়া ধর্ম মহামেলা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমিয়েছেন বড়মার আঙিনায়। আর এই ভিড়ের চাপে প্রতিবারই ঠাকুরনগর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে যে নাভিশ্বাস দশা তৈরি হয়, এবার তা সামলাতে এক অভিনব পদক্ষেপ করল রেল। এই প্রথমবার খোদ ঠাকুরবাড়ির ভেতরেই চালু করা হলো ‘ভ্রাম্যমাণ টিকিট কাউন্টার’।

রেল সূত্রে খবর, পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে বেশ কয়েকজন রেলকর্মীর কাছে থাকা মেশিনের মাধ্যমেই অসংরক্ষিত (Unreserved) টিকিট কাটতে পারছেন ভক্তরা। রেলের এই বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুব্রত ঠাকুর। তিনি বলেন, “রেল প্রথমবার এমন ব্যবস্থা করল, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তবে সেই সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, “মতুয়ারা মূলত উদ্বাস্তু ও পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষ। অনেকের পক্ষেই বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কাটা অসম্ভব। তাই রেলের উচিত তাঁদের জন্য বিশেষ ভাড়ার ছাড় ঘোষণা করা।”

তবে লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক পরেই রেলের এই বাড়তি তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসআইআর (SIR) বা সংশোধিত পরিচয়পত্র ইস্যু নিয়ে মতুয়াদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তার ওপর সিএএ (CAA) কার্যকর হলেও নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে অনেকের মনেই এখনও সংশয় কাটেনি। সেই চোরা অসন্তোষের ক্ষতে প্রলেপ দিতেই কি ‘সাফল্য’ হিসেবে এই পরিষেবা সামনে আনা হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন বনগাঁর রাজনীতির অলিগলি ঘুরে বেড়াচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টিকে নেহাতই ‘যাত্রী পরিষেবা’ হিসেবে দেখছে। তাঁদের দাবি, লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি এই ভ্রাম্যমাণ কাউন্টার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে। কিন্তু ভোটের মুখে মতুয়া মন জয়ে রেলের এই টিকিট বিলি কতটা কাজে দেয়, তা বোঝা যাবে ৪ মে-র ব্যালট বক্স খুললেই।-প্রতীকী ছবি

Share on Social Media