নিউজ ডেস্ক: ইরানের আকাশসীমায় সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও বিমান হানার জেরে কার্যত অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য। আর তার সরাসরি আঁচ এসে পড়ল কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ইরান, ইরাক ও কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথগুলি নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ করে দেওয়ায় পশ্চিমের দেশগুলিতে যাওয়ার প্রধান ‘গেটওয়ে’ এখন কার্যত রুদ্ধ। এর ফলে তিলোত্তমার পর্যটক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়িক যাত্রী— সকলেই চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
রবিবার সারাদিনই কলকাতা বিমানবন্দরে দেখা গেল বিশৃঙ্খলার ছবি। বিমানবন্দর সূত্রে খবর, শুধুমাত্র রবিবারই ১০টি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি আসা এবং ৫টি যাওয়ার উড়ান ছিল। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এবং এয়ার আরাবিয়ার মতো প্রথম সারির বিমান সংস্থাগুলি তাদের পরিষেবা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে এমিরেটসের ৪টি উড়ান বাতিল হওয়ায় দুবাইগামী যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এমনকি হংকং থেকে দোহাগামী একটি পণ্যবাহী বিমানকে মুম্বই বা করাচির বদলে কলকাতায় জরুরি অবতরণ করিয়ে বসিয়ে রাখতে হয়েছে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের পকেটেও। ট্রাভেল এজেন্টদের সূত্র অনুযায়ী, এক ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা থেকে দুবাই যাওয়ার একদিকের টিকিটের দাম বর্তমানে ছুঁয়েছে প্রায় ৪০,০০০ টাকা। শুধু খরচ নয়, বেড়েছে যাতায়াতের সময়ও। আগে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আমেরিকা যেতে যেখানে ২১ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সিঙ্গাপুর বা ব্যাংকক হয়ে ঘুরে যেতে সময় লাগছে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ ঘণ্টা।
ট্রাভেল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ইস্টার্ন চ্যাপ্টার)-এর চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি জানিয়েছেন, “দুবাই কলকাতার মানুষের কাছে লাইফলাইনের মতো। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যবসা এবং পর্যটন— উভয়কেই খাদের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।” উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো দেশীয় সংস্থাগুলিও আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক উড়ান স্থগিত রেখেছে। ইরানে আটকে থাকা প্রায় ১,২০০ ভারতীয় পড়ুয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই অনেক পর্যটক এখন বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করে দেশের ভেতরেই ভ্রমণের কথা ভাবছেন।