নিউজ ডেস্ক: ভরদুপুরে খাস কলকাতার ময়দান চত্বরে শিউরে ওঠার মতো নৃশংসতা। এক যুবতীকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল তাঁরই পরিচিত এক যুবকের বিরুদ্ধে। ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে লড়াই চালাচ্ছিলেন ওই যুবতী, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে বেলেঘাটা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
ভরদুপুরে অগ্নিদগ্ধ যুবতী:
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত যুবক বছর তিরিশের ওই যুবতীকে ফোন করে ময়দান এলাকায় ডেকে পাঠায়। সেখানে দু’জনের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, কথা কাটাকাটি চলাকালীনই যুবক তার ব্যাগ থেকে কেরোসিন ভর্তি একটি বোতল বের করে অতর্কিতে যুবতীর গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা অবস্থায় যুবতী ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুরু করলে আসেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত।
হাসপাতাল ও আইনি লড়াই:
উপস্থিত জনতা যুবতীকে উদ্ধার করে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীনই পুলিশ ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে নিজের জবানবন্দি দিয়ে যান ওই যুবতী। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরেই তল্লাশি চালিয়ে বেলেঘাটা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ।
-
চার্জশিটে বদল: সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানান, প্রথমে ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার (Attempt to Murder) মামলা রুজু করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু যুবতীর মৃত্যু হয়েছে, তাই প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পেলেই ভারতীয় দণ্ডবিধির খুনের ধারা (Murder) যুক্ত করা হবে।
-
জামিনের বিরোধিতা: শনিবার আদালতে ধৃতের জামিনের জোরালো বিরোধিতা করে সরকার পক্ষ। বিচারক সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে জামিন নাকচ করে ধৃতকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নেপথ্যে কী কারণ?
পুলিশ খতিয়ে দেখছে ঠিক কী কারণে এই চরম পথ বেছে নিল ওই যুবক। তাদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল নাকি অন্য কোনও শত্রুতা— তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যাগে করে আগে থেকেই কেরোসিন নিয়ে আসায় পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই আক্রমণটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ভরদুপুরে ময়দানের মতো জনবহুল এলাকায় এই ধরণের নারকীয় ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।