নিউজ ডেস্ক: বুধবার মধ্যরাতের কালবৈশাখী কেড়ে নিল এক তরুণের প্রাণ। ঝোড়ো হাওয়ায় হুড়মুড়িয়ে দোকানের ওপর বিশালাকৃতি বটগাছ উপড়ে পড়ে মৃত্যু হলো সুজন দাস (২৩) নামে এক যুবকের। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর এক বন্ধুও। উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি ব্লকের খাগড়াবাড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বারিকামারি গ্রামের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বারিকামারি দাসপাড়া এলাকায় একটি ছোট দোকান চালাতেন সুজন। দারিদ্র্যের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। মাঝেমধ্যেই রাতে নিজের দোকানেই রাত কাটাতেন তিনি। বুধবার রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একা না থেকে বন্ধু কাজল দাসকেও ওই রাতে দোকানে থাকতে বলেছিলেন সুজন। দুই বন্ধু যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই প্রকৃতির রুদ্ররোষ আছড়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় দোকানের পাশে থাকা পুরনো বটগাছটি উপড়ে সরাসরি দোকানের ওপর পড়ে।
বিশালাকৃতি গাছের তলায় কার্যত পিষ্ট হয়ে যান দোকানের ভেতরে থাকা দুই বন্ধু। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকেই কাজল চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় একটি পরিবার ছুটে আসে। প্রতিবেশীরা হাড়ভাঙা খাটুনি করে দু’জনকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত কাজল বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। সংসারের একমাত্র অন্নসংস্থানকারী ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে সুজনের পরিবার। সামান্য ঝড়ে যে এমন কালান্তক বিপদ নেমে আসবে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন দ্বারিকামারির বাসিন্দারা।