নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে সাত জন বিচারককে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা আটকে রাখা এবং তাঁদের উদ্ধারের সময় পুলিশি কনভয়ে হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। এই নজিরবিহীন ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে শুভেন্দু যখন এই ঘটনার নেপথ্যে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘উস্কানি’ দেখছেন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনকে।
সালকিয়া থেকে শুভেন্দুর আক্রমণ:
বৃহস্পতিবার হাওড়ার সালকিয়ায় হনুমান জয়ন্তীর একটি মিছিলে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই মালদহ কাণ্ড নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি। বিরোধী দলনেতার দাবি, “এই পুরো ঘটনাটিই তৃণমূলের এক গভীর ও পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েক দিন ধরে ক্রমাগত কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের হাতা-খুন্তি নিয়ে নামার উস্কানি দিচ্ছিলেন। তাঁর সেই কথারই ফলশ্রুতি এই বিচারক নিগ্রহ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের কী ভূমিকা ছিল, তা ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত করা উচিত। আমি দাবি করছি, অবিলম্বে সাবিনা ইয়াসমিন এবং মিমি-র সঙ্গে যুক্ত ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
দায় ঝেড়ে পাল্টা তোপ মমতার:
বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার দায় চাপিয়েছেন সরাসরি দিল্লির ওপর। তাঁর মতে, অমিত শাহের ইশারায় নির্বাচন কমিশন যেভাবে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে রদবদল ঘটিয়েছে, তার ফলেই এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মমতা বলেন, “মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং জেলার এসপি-কে তড়িঘড়ি বদল করার ফলেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনেই কমিশন এ সব করছে।”
আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার সংশোধনী খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট যে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করেছিল, বুধবার তাঁদেরই মোথাবাড়িতে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্দি থাকার পর মাঝরাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদহের ডিএম ও এসপি-কে শোকজ করেছে। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর।
ভোটের মুখে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এই হামলা এবং তা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা এখন রাজ্য রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়। বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হলো, সেই প্রশ্নই এখন সবথেকে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।