নিউজ ডেস্ক: ভোটের ময়দানে এবার পরিচয় ভাঁড়িয়ে ছাপ্পা ভোট রুখতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। ওড়না বা কাপড়ে মুখ ঢেকে কেউ যাতে পরিচয় গোপন করে বুথে ঢুকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসারদের ওপর বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এবার ভোটারদের বুথে প্রবেশের আগেই তাঁদের পরিচয় যাচাই করবেন বিএলও-রা। কোনওরকম অসঙ্গতি বা জালিয়াতির সন্দেহ হলে সরাসরি প্রিসাইডিং অফিসারকে তা জানাতে হবে। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি বুথের ঠিক বাইরে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘ভোটার সহায়তা কেন্দ্র’।
কমিশনের নয়া রণকৌশল অনুযায়ী, যেখানে কোনও মহিলা বিএলও নেই, সেখানে কোনও মহিলা ভোটার মুখ ঢেকে এলে তাঁর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আলাদা একজন মহিলা কর্মীকে নিয়োগ করা হবে। বিএলও-দের হাতে থাকবে ছবি-সহ বর্ণানুক্রমিক ভোটার তালিকা। কোনও ভোটার মোবাইল ফোন নিয়ে এলে তা গচ্ছিত রাখার দায়িত্বও থাকবে তাঁদেরই ওপর। বিএলও-র ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই একজন ভোটার পোলিং অফিসার এবং এজেন্টদের সামনে দিয়ে ইভিএম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন। অর্থাৎ, বুথে ঢোকার মুখে এবার থাকছে দু’স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
তবে এই নয়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একধরণের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন বিএলও-দের একাংশ। যেহেতু বিএলও-রা মূলত স্থানীয় এলাকারই বাসিন্দা, তাই ভুয়ো ভোটার ধরতে গিয়ে তাঁদের স্থানীয় রাজনৈতিক দল বা দুষ্কৃতীদের রোষানলে পড়ার ভয় কাজ করছে। ‘ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ’ এবং অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরণের কাজের ক্ষেত্রে মহিলা নিরাপত্তারক্ষী থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমত। এর আগে ‘সার’ (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিএলও-দের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল, যা তাঁদের এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিএলও-দের জন্য ১৬ দফার এক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের পাঁচ দিন আগেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে। স্লিপ হস্তান্তরের পর নির্দিষ্ট রেজিস্টারে ভোটারের সই নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কোনও স্লিপ বিলি করা না যায়, তবে তা দ্রুত রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। কর্তব্য পালনে কোনওরকম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বা অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি বুথের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি বা ওয়েবক্যাম বসানোর কাজও সেক্টর অফিসারদের সঙ্গে মিলে বিএলও-দেরই তদারকি করতে হবে। ক্যামেরা এমনভাবে বসাতে হবে যাতে ভোটদানের গোপনীয়তা বজায় থাকে।