নিউজ ডেস্ক: দ্বীপবাসীর বহু দশকের স্বপ্ন এবার বাস্তবের দোরগোড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিলান্যাসের পর এবার কাকদ্বীপ থেকে সাগর যাওয়ার পথে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর প্রস্তাবিত ‘গঙ্গাসাগর সেতু’ নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করল নামী নির্মাণকারী সংস্থা ‘লারসন অ্যান্ড টুবরো’ (L&T)। রবিবার সাগরে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা জানানো হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা উপস্থিত ছিলেন। এল অ্যান্ড টি-র তিন প্রতিনিধি প্রস্তাবিত সেতুর চূড়ান্ত কারিগরি নকশা আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরেন। ব্রিজের মোট দৈর্ঘ্য, কতগুলি স্তম্ভ থাকবে এবং নদীর জোয়ার-ভাটার কথা মাথায় রেখে এর স্থায়িত্ব কেমন হবে— তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা ও পলি জমার বিষয়টি মাথায় রেখে অত্যন্ত অত্যাধুনিক প্রকৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে এই সেতুতে।
সূত্রের খবর, কাকদ্বীপের লট এইট সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এল অ্যান্ড টি। সাগরের দিকে সংস্থাটি কিছু জমি কিনলেও কাজ পরিচালনার জন্য আরও প্রায় ১০ বিঘা জমির প্রয়োজন বলে জানিয়েছে। যেখানে বড় বড় যন্ত্রপাতি রাখা এবং কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এল অ্যান্ড টি-র পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ করা হবে।
মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্প সুন্দরবনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব আনবে। গঙ্গাসাগর মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের দুর্ভোগ যেমন কমবে, তেমনই কয়েক লক্ষ দ্বীপবাসী দৈনন্দিন নদী পারাপারের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন। পর্যটন মানচিত্রেও এই সেতু বিশেষ গুরুত্ব পাবে।” প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ প্রায় শেষ, এবার স্রেফ বড় মাপের পরিকাঠামোগত কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষা।