নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে সাত বিচারককে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্দি করে রাখার ঘটনায় তদন্তের জাল ক্রমেই গুটিয়ে আনছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। শুক্রবার থেকে মালদহে ডেরা গেড়ে কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ঘটনার নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের হাত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে কেন এত দেরি হলো, তা নিয়ে জেলা পুলিশকেও আতশকাঁচের তলায় রেখেছে এনআইএ।
বিচারকদের বয়ান রেকর্ড ও নথি সংগ্রহ:
সূত্রের খবর, মোথাবাড়ির বিডিও অফিসে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে আক্রান্ত সাত বিচারকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তদন্তকারীরা। তাঁদের কাছ থেকে সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিবরণ শোনার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত গাড়ির চালকদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে।
-
নিরাপত্তার অভাব: বিডিও অফিসে যে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে, তা জানিয়ে বিচারকরা আগে যে চিঠি জেলাশাসককে দিয়েছিলেন, তার কপিও সংগ্রহ করেছে এনআইএ।
-
কন্ট্রোল রুমের ভূমিকা: মালদহ জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে গিয়ে লগবুক এবং থানার জেনারেল ডায়েরি (GD) খতিয়ে দেখা হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার কতক্ষণ পর পুলিশ সেখানে পৌঁছাল এবং কতজন কর্মীকে পাঠানো হয়েছিল— সেই সময়ের হিসেব মেলাতেই এই তৎপরতা।
ষড়যন্ত্রের শিকড়ের সন্ধানে:
মোথাবাড়ি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, কার উস্কানিতে এবং কার নির্দেশে ওইদিন বিডিও অফিসে ভিড় উপচে পড়েছিল।
-
নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগ: প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ-র সন্দেহ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এই বিক্ষোভ ছিল স্রেফ একটা অজুহাত। এর পিছনে আইএসএফ (ISF), মিম (MIM)-এর পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠন ‘সিমি’ (SIMI) এবং ‘পিএফআই’ (PFI)-এর প্ররোচনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
-
পুলিশি গাফিলতি: প্রশ্ন উঠছে জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। পরিস্থিতি এতটাও গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ সুপার নিজে না গিয়ে কেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে বেশ কয়েকজন আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি যে পূর্ব পরিকল্পিত ছিল, সে ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। আগামী সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে মোথাবাড়ি কাণ্ডের এই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে এনআইএ। নির্বাচনের মুখে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এই নজিরবিহীন হামলা এবং তাতে উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগসূত্র মেলায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।