নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ বন্দি করে রাখার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পরতে পরতে খুলছে রহস্যের জট। উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এবার বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওই আইনজীবীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এই টাকার উৎস কী এবং এর সঙ্গে কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্র লিপ্ত কি না, তা খতিয়ে দেখতে আজ, সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে এনআইএ।
অ্যাকাউন্টে এনজিও-র টাকা ও বিঘা বিঘা জমি
মোফাক্কেরুল ইসলামের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে ইটাহার ও মালদহের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই লেনদেনের সিংহভাগই হয়েছে নগদে।
-
রহস্যময় উৎস: তদন্তকারীরা জেনেছেন, বেশ কিছু এনজিও (NGO) থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। কেন এই টাকা পাঠানো হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে কোনও নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা জানতে ব্যাঙ্কগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছে এনআইএ।
-
আয়কর হানা: ওই আইনজীবী আদেও আয়কর দিতেন কি না, তা জানতে আয়কর দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন আধিকারিকরা।
পুলিশের গাফলতি ও বিচারক নিগ্রহ
মোথাবাড়ি কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনআইএ। আজ সুপ্রিম কোর্টে যে রিপোর্ট জমা পড়ছে, তাতে জেলা পুলিশের গাফিলতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে বলে খবর।
-
উদ্ধারে বিলম্ব: গোয়েন্দাদের দাবি, বিচারকদের বিডিও অফিস থেকে উদ্ধার করতে পুলিশ অনেকটা দেরি করেছিল। প্রথম দিকে যে ধরণের সক্রিয়তা দেখানো উচিত ছিল, তা প্রশাসনিক স্তরে দেখা যায়নি।
-
অরক্ষিত ম্যাজিস্ট্রেট: পুলিশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই উস্কানিদাতারা রাস্তায় বাঁশ ফেলে অবরোধ তৈরি করেছিল এবং ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে হামলা চালাতে পেরেছিল।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, মোথাবাড়ির এই অশান্তি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল। সেই পরিকল্পনার রসদ হিসেবেই দেশ-বিদেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছিল কি না, এখন সেটাই গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এনআইএ-র এই রিপোর্ট জমা পড়ার পর মোথাবাড়ি কাণ্ডে পুলিশের বড়সড় কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।