নিউজ ডেস্ক: রূপনারায়ণপুরের এক বৃদ্ধের মোবাইলে মাঝরাতে এসেছিল একটি অচেনা ফোন। ফোনটি রিসিভ করতেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নিমিষে উধাও হয়ে গেল ৫২ হাজার টাকা। রূপনগরের বাসিন্দা, হিন্দুস্তান কেবলসের প্রাক্তন কর্মী স্বপন নাথের সঙ্গে ঘটা এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পাসওয়ার্ড হ্যাক করে জালিয়াতির এই নতুন ধরনে কপালে ভাঁজ পড়েছে দুঁদে গোয়েন্দাদেরও।
পেশায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মী স্বপনবাবু বরাবরই ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত ছিলেন। অনলাইন ব্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল জমা— সবই করতেন নিজের মোবাইল থেকে। বিপত্তির শুরু গত ১১ মার্চ। স্বপনবাবু লক্ষ্য করেন, তাঁর মোবাইলের নিজস্ব পাসওয়ার্ডটি আচমকাই কাজ করছে না। বারংবার ভুল পাসওয়ার্ড দেখানোর পর তাঁর ফোনে একটি নতুন পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে সেটি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনও ফাঁদ থাকতে পারে ভেবে স্বপনবাবু সেই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে স্থানীয় মোবাইল দোকানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আসল ‘অপারেশন’ শুরু হয় গত ১৩ মার্চ রাত ১১টা নাগাদ। স্বপনবাবুর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ট্রু কলারে ‘দিলদার খান এম’ নামে এক ব্যক্তির ফোন দেখে প্রথমে তিনি ধরেননি। কিন্তু দ্বিতীয়বার ফোন আসায় কোনও বিপদ হয়েছে ভেবে তিনি রিসিভ করেন। আর ফোন ধরার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায়, তাঁর মোবাইলের পুরোনো লক খুলে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্কের মেসেজ দেখে স্বপনবাবু আঁতকে ওঠেন। তিনি দেখেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে ৫২ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সঙ্কটে পড়া স্বপনবাবু ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইম বিভাগে বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে সাইবার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপরাধীরা কৌশলে স্বপনবাবুর মোবাইলের দখল (Hacking) নিয়েছিল। ফোন কলটি ছিল স্রেফ একটি সংকেত, যা রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই ‘রিমোট অ্যাক্সেস’ ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোটের মুখে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই নতুন কৌশল রুখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।