নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার বুকে সক্রিয় আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। চলতি মাসের শুরুতে সার্ভে পার্ক থানায় দায়ের হওয়া এক অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়ে এই চক্রের ছয় পাণ্ডাকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, এই চক্রের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত প্রতারণা গ্যাংয়ের গভীরে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে অনীশ সরকার ও দিলদার আনসারি অন্যতম। তদন্তে জানা গিয়েছে, অনীশ মূলত বিভিন্ন গ্রাহকদের ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য জোগাড় করত। সেই তথ্য পৌঁছে দেওয়া হত দিলদারের কাছে, যে ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক এক সাইবার প্রতারণা গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। এই দিলদারই মোবাইলে বিপজ্জনক ‘এপিকে ফাইল’ (APK File) পাঠিয়ে গ্রাহকদের অজান্তেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিত। ১৯ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি মামলার তদন্তে নেমেই এই চক্রের হদিশ পায় পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সোমবার রাতে সোদপুর এলাকা থেকে প্রথমে অরিন্দম দাস, শৌভিক ব্যাপারি, সায়ন রাজবংশী এবং অর্পণ দাস নামে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এন্টালি থানা এলাকা থেকে ধরা পড়ে মূল দুই হোতা অনীশ ও দিলদার। ধৃতদের কাছ থেকে ১২টি দামি মোবাইল ফোন, সোনার গয়না, নামী ব্র্যান্ডের ঘড়ি, এটিএম কার্ড, চেকবুক, একটি গাড়ি এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের অনুমান, সাধারণ মানুষের থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা দিয়েই এই সব বিলাসদ্রব্য কেনা হয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করত। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতানোর পরেই তা দ্রুত অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে জিনিসপত্র কিনে ফেলা হত, যাতে পুলিশের পক্ষে হদিশ পাওয়া কঠিন হয়। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং ঝাড়খণ্ডের কোন বড় মাথার নির্দেশে এরা কাজ করত, তা জানার চেষ্টা করছেন লালবাজারের সাইবার বিশেষজ্ঞরা।