নিউজ ডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক চরম অমানবিক ছবি ধরা পড়ল মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাংলা-বিহার সীমান্তবর্তী কুশিদা হাটে। মোবাইল চুরির সন্দেহে এক কিশোরকে দিনের আলোয় ভরা হাটের মাঝে বেধড়ক মারধর করল উত্তেজিত জনতা। প্রাণভিক্ষা চেয়ে হাতজোড় করলেও রেহাই মেলেনি ওই নাবালকের। এই গণপিটুনির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুশিদা হাটে স্থানীয় বাসিন্দারা এক কিশোরকে মোবাইল চোর সন্দেহে পাকড়াও করেন। এরপরই শুরু হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার) দেখা গিয়েছে, শিশু থেকে বৃদ্ধ— নির্বিচারে সবাই ওই কিশোরকে লাঠি, ঘুঁষি দিয়ে মারধর করছে। উন্মত্ত জনতা ওই কিশোরের জামাকাপড় খুলে নগ্ন করে দেওয়ার চেষ্টাও চালায়। কিশোরটি বারবার ক্ষমা চাইলেও মার থামেনি।
হাটের মতো জনবহুল জায়গায় এমন অমানবিক ঘটনা দেখে শিউরে উঠছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যারা এই গণপিটুনিতে অংশ নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বারবার প্রশাসন সতর্ক করা সত্ত্বেও মানুষ এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।
তবে ওই কিশোরটি সত্যিই মোবাইল চুরি করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোনও রকম প্রমাণ বা বিচার ছাড়াই এভাবে গণপিটুনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ বলেই মনে করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।