নিউজ ডেস্ক: একের পর এক আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে সেরার শিরোপা কিংবা প্লেসমেন্টে নজরকাড়া সাফল্য— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে পালকের অভাব নেই। কিন্তু বিতর্কের মেঘ যেন পিছু ছাড়ে না এই প্রতিষ্ঠানের। ছাত্রমৃত্যু থেকে শুরু করে আর্থিক সংকটের আবহেই এবার বড়সড় ধাক্কা খেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পড়ুয়াদের একাংশের বিক্ষোভের জেরে কার্যত বাধ্য হয়েই প্লেসমেন্ট সেল ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কেন এই চরম পদক্ষেপ?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই টানাপড়েন চলছিল। তবে সম্প্রতি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ উঠেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির কয়েকজন পড়ুয়া একাধিক বিষয়ে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় পাশ করার তথ্য গোপন করেই নামী বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি পেয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই ওই পড়ুয়াদের নিয়োগ বাতিল করে দেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি। এই ঘটনায় প্লেসমেন্ট সেলের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ভবিষ্যতে ওই সংস্থাগুলি থেকে যাদবপুরের পড়ুয়াদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রশাসনিক সংকট:
এই জালিয়াতি সামনে আসার পর যখন কড়াকড়ি শুরু হয়, তখনই প্লেসমেন্ট সেলের সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রদের একটি অংশ।
-
ক্ষমতার লড়াই: ট্রেনিং অ্যান্ড প্লেসমেন্ট অফিসার (TPO) শমিতা ভট্টাচার্যের তুলনায় সেলের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব বেশি ছিল বলে দাবি করে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।
-
পদত্যাগ ও সিদ্ধান্ত: পরিস্থিতির চাপে সেলের সদস্যরা পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য গোটা সেলটিই ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। উপাচার্যের কথায়, সমন্বয়হীনতা দূর করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন করে এই সেল গঠন করা হবে।
ক্ষোভে ফুঁসছে আর্টস ও সায়েন্স ফ্যাকাল্টি:
ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ছাত্রদের চাপে সেল ভেঙে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ বিজ্ঞান ও আর্টস ফ্যাকাল্টির পড়ুয়ারা। তাঁদের সাফ কথা, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কিছু পড়ুয়ার ‘অসততা’ ও অনৈতিক পদক্ষেপের দায় কেন তাঁদের নিতে হবে? প্লেসমেন্ট সেল না থাকায় এখন তাঁদের চাকরির ইন্টারভিউ বা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত কেরিয়ার নিয়ে এই আশঙ্কার জেরে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
যাদবপুরের মতো হেরিটেজ প্রতিষ্ঠানে প্লেসমেন্ট সেলের এই ‘অকাল মৃত্যু’ যে শিল্পমহলে ভুল বার্তা দেবে, তা মেনে নিচ্ছেন অধ্যাপকদের একাংশও। এখন দেখার, কত দ্রুত এই জট কাটিয়ে ফের নতুন সেল গঠন করে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করেন কর্তৃপক্ষ।