নিউজ ডেস্ক: ভিআইপি সংস্কৃতিতে দাঁড়ি টেনে এবার অকারণে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবহারের ‘আয়েশ’ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। খোদ সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর এবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা গানম্যান নিয়ে ঘোরার দাপটে লাগাম টানতে শুরু করল কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে সরাসরি সতর্ক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁদের প্রকৃত ‘প্রয়োজন’ নেই, তাঁদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আর পুলিশ থাকবে না। শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যানে ‘নিরাপত্তা’র বহর:
কমিশনের কাছে জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে শাসকদলের ছোট-বড় নেতাদের জন্য নিয়োজিত পুলিশের সংখ্যা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় কর্তাদের।
-
নেতাদের তালিকা: তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের মোট ৮৩২ জন নেতা এবং আরও ১৪৪ জন শাসক-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশি নিরাপত্তা পান।
-
পুলিশি বহর: এঁদের সকলের জন্য কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট ২১৮৫ জন পুলিশ কর্মীকে নিয়োগ করে রাখা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মীকে জননিরাপত্তা বা ভোটের কাজে ব্যবহার না করে নেতাদের ব্যক্তিগত পাহারায় রাখার বিষয়টি মোটেও ভালো চোখে দেখছে না কমিশন।
কড়া নির্দেশ ও সময়সীমা:
কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, যাঁরা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কিন্তু বর্তমানে জামিনে বা প্যারোলে বাইরে রয়েছেন এবং যাঁদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও বাস্তবিক ‘থ্রেট’ বা হুমকি নেই— শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে তাঁদের নিরাপত্তা তুলে নিতে হবে।
-
রিপোর্ট তলব: জেলাওয়াড়ি এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হল, তা শনিবার বেলা ১২টার মধ্যে রিপোর্ট আকারে কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে।
-
ব্যতিক্রম: অবশ্য কমিশন এও স্পষ্ট করেছে যে, যাঁদের প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে বা বিশেষ প্রশাসনিক কারণে নিরাপত্তার প্রয়োজন, তাঁদের রক্ষী এখনই তোলা হবে না।
জেলায় জেলায় তৎপরতা:
এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই জেলা পুলিশ মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গ: দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল ও রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পর্যালোচনার (Review) কাজ শুরু হয়েছে। কোচবিহারের এসপি জসপিত সিং অবশ্য এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি।
-
নেতাদের প্রতিক্রিয়া: আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল নেতা সৌরভ চক্রবর্তী জানান, কমিশন থেকে ফোন করে তাঁর কতজন রক্ষী আছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বীরভূমের তৃণমূল নেতা কাজল শেখের বিরুদ্ধে একসময় ৬৫টি মামলা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৬টি হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত তাঁর নিরাপত্তা বলয় অটুট ছিল বলেই খবর।
রাজ্য পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন করে নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা থ্রেট পারসেপশন খতিয়ে দেখে পুলিশকর্মীদের তুলে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরের পর জানা যাবে, বাংলার কতজন নেতার ‘গানম্যান’ ভাগ্য শিকেয় ছিঁড়ল।