নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তুঙ্গে উঠল বিতর্ক। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় পাঁচশো বিচারক এই বিপুল সংখ্যক নামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দিনরাত কাজ করছেন। তবে তালিকা প্রকাশে বিলম্ব এবং প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে শনিবার দিনভর চরম উৎকণ্ঠায় কাটল সাধারণ ভোটারদের।
শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা দেখা দেয়। বিশেষ করে যাঁরা শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের নাম তালিকায় আছে কি না জানতে বুথ স্তরে ভিড় জমান। অভিযোগ, সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বহু ভোটকেন্দ্রে তালিকা টাঙানো হয়নি। সরকারি ওয়েবসাইটও ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। এমনকি সন্ধ্যার পর অনলাইন তালিকা মিললেও অনেক ক্ষেত্রে তা খোলা যায়নি বলে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিকেলের দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, প্রযুক্তিগত কারণে বিধাননগর ও যাদবপুরের তালিকা প্রকাশে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর দেবলিনা বিশ্বাস জানিয়েছেন, যাঁদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিচারাধীন থাকা নামগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। রবিবার সমস্ত বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ভোটার তালিকা নিয়ে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে দক্ষিণ কলকাতা জেলা নির্বাচন দপ্তর। নির্বাচনের মুখে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভাগ্য ঝুলে থাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।