নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর এই প্রথম বঙ্গে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য— উত্তরের মাটি থেকে দক্ষিণের প্রান্ত পর্যন্ত পদ্ম-হাওয়া বইয়ে দেওয়া। আজ, রবিবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দান থেকেই নিজের নির্বাচনী প্রচারের রণদামামা বাজাতে চলেছেন তিনি। বিকেল ৩টেয় আয়োজিত এই ‘বিজয় সংকল্প সভা’ ঘিরে এখন সাজ সাজ রব কোচবিহার জুড়ে। গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির ফল ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই জয়ের ধারা বজায় রেখে তৃণমূলের ‘দুর্ভেদ্য দুর্গে’ বড়সড় ফাটল ধরাই এখন গেরুয়া শিবিরের পাখির চোখ।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের যে ডাক প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেডের সভা থেকে দিয়েছিলেন, কোচবিহারের এই জনসভা তারই পরবর্তী ধাপ। গত কয়েক দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য চষে ফেলেছেন। এমনকি ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের সময়ও তাঁর উপস্থিতি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এবার সরাসরি ময়দানে নামছেন খোদ সেনাপতি। কোচবিহারকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট রণকৌশল— উত্তরের জেলাগুলি থেকে জনসমর্থন সংহত করে গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ তোলা।
মোদীর সফরসূচি কেবল উত্তরবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। দলীয় সূত্রে খবর, আগামিকাল বাদে আগামী ৯ এপ্রিল রাজ্যে ফের ঝটিকা সফর করবেন তিনি। সেদিন হলদিয়া, সিউড়ি এবং আসানসোলে তিনটি মেগা জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়েও সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রচারের পারদ আরও চড়াতে আগামী ১০ এপ্রিল শিলিগুড়িতে একটি বর্ণাঢ্য রোড শো-র পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগেই নরেন্দ্র মোদীর এই ঘন ঘন সফরকে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।