নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে রেশন কার্ডের তথ্য যাচাই না করলে বড়সড় বিপাকে পড়তে পারেন রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ গ্রাহক। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা ওই গ্রাহকদের ভরতুকিযুক্ত চাল ও গম সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মোদী সরকার। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশে এই তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৮০ লক্ষ রেশন কার্ডধারী।
কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, সারা দেশে প্রায় ৫ কোটি ৯৫ লক্ষ ‘সন্দেহভাজন’ রেশন গ্রাহকের তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্যগুলিকে। বিভিন্ন মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই গ্রাহকদের বৈধতা বা অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪ কোটি ১৬ লক্ষ কার্ডের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ কোটি ১৫ লক্ষ কার্ড ভুয়ো প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের চিত্র ও কেন্দ্রের ডেডলাইন
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মোট ১৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৮০২ জন গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩১ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৪ লক্ষ কার্ডের যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কার্ড বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। অর্থাৎ, এখনও রাজ্যে ১২ লক্ষাধিক কার্ডের তথ্য যাচাই বাকি রয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র সাফ জানিয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশ যাচাই শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলিতে ভরতুকি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কেন থমকে কাজ? বিশেষজ্ঞ মহলের উদ্বেগ
রাজ্য খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরে সরকারি কর্মীরা এসআইআর (SIR) এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকায় যাচাইয়ের কাজে গতি কমেছে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু অভিযোগ করেছেন, “নির্বাচনের আবহে এই কাজ করা কঠিন। আমরা কেন্দ্রকে সময় বাড়ানোর দাবি জানাব।” তাঁর দাবি, ভরতুকি কমাতেই কেন্দ্র বিভিন্ন অছিলায় রেশন কার্ড বাতিলের এই কৌশল নিয়েছে।
রাজ্যের ওপর আর্থিক চাপ: যদি ৩১ মার্চের পর কেন্দ্র ভরতুকি বন্ধ করে দেয়, তবে রাজ্যের ৬ কোটি জাতীয় প্রকল্পভুক্ত গ্রাহকের মধ্যে ওই ১২ লক্ষ গ্রাহকের চাল সরবরাহ বজায় রাখতে রাজ্য সরকারকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে। তবে গমের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে, কারণ গম সরাসরি কেন্দ্র সরবরাহ করে। ফলে ওই ১২ লক্ষ পরিবার গমের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।