নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছরের লুকোচুরি শেষ। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের জালে ধরা পড়ল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) কুখ্যাত হ্যান্ডলার সাবির আহমেদ লোন। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ২০০৭ সালে একবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েই বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল সাবির। গত কয়েক বছর ধরে সে বাংলাদেশে গা ঢাকা দিয়ে লস্করের নেটওয়ার্ক সামলাচ্ছিল। দিল্লির স্পেশাল সেলের টানা দু’মাসের রুদ্ধশ্বাস অপারেশনের পর অবশেষে এই সাফল্য মিলল।
গোয়েন্দা জালে যেভাবে ধরা পড়ল সাবির:
সাবিরকে ধরতে দিল্লি পুলিশ ও শ্রীনগরের গোয়েন্দা বিভাগ একযোগে কাজ শুরু করে। গত দুই মাস ধরে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল:
-
সিগন্যাল ইন্টারসেপ্ট: সাবিরের ফোন রেকর্ড এবং ডিজিটাল সিগন্যাল ট্র্যাক করে তার অবস্থান নিশ্চিত করেন গোয়েন্দারা।
-
সীমান্তে নজরদারি: ২০১৯ সালে ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর সাবির লস্করের ‘অপারেটিভ’ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ‘হ্যান্ডলার’ হয়ে ওঠে। ঢাকা থেকেই সে নাশকতার ছক কষছিল।
-
যৌথ অভিযান: শ্রীনগর, গান্ধেরবাল ও সোপিয়ানে ধৃত অন্যান্য লস্কর জঙ্গিদের জেরা করে সাবিরের গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর আসে যে সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ওত পেতে বসে থাকা স্পেশাল সেল তাকে পাকড়াও করে।
দিল্লি ও কলকাতায় আনাগোনা:
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশে থাকলেও সাবির মাঝে মাঝেই জাল পরিচয় ব্যবহার করে দিল্লি ও কলকাতায় আসত। লস্করের স্লিপার সেলগুলিকে সক্রিয় করা এবং অর্থের জোগান নিশ্চিত করাই ছিল তার মূল কাজ। কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনাতেও সাবিরের বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
বর্তমানে সাবিরকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে জেরা করে ভারতে লস্করের আর কোন কোন স্লিপার সেল সক্রিয় রয়েছে এবং বাংলাদেশে বসে কারা তাকে সাহায্য করছিল, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।