নিউজ ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই মুর্শিদাবাদ জেলায় এক বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। সালারে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ভাঙনের ছবি সামনে এল। তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি-সহ একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী দলীয় নেতৃত্ব এদিন ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করলেন।
ভরতপুর বিধানসভার অন্তর্গত সালারের উজুনিয়া গ্রামে এদিন এক বিশাল যোগদান সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার মূল আকর্ষণ ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর হাত থেকেই কংগ্রেসের তেরঙা পতাকা তুলে নেন সালার ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি আজাহারুদ্দিন সিজার। সিজারের সঙ্গেই এদিন কয়েকশো তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং একাধিক পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি কংগ্রেসে শামিল হন।
কংগ্রেসের পতাকা হাতে নেওয়ার পর মঞ্চ থেকে শাসক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন আজাহারুদ্দিন সিজার। তিনি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “ভরতপুর বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই সংকল্প নিয়েই আজ আমরা ঘরওয়াপসি করলাম।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভরতপুরের বর্তমান বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় শাসক দলের সাংগঠনিক ভিত কিছুটা নড়বড়ে ছিল। বর্তমানে হুমায়ুন কবীর ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সালারে তৃণমূলের এই ভাঙন শাসক দলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল।
যোগদান সভার শেষে এদিন এক সৌজন্যের ছবিও ধরা পড়ে। সভা শেষে স্থানীয় গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণে এক ইফতার মাহফিলে যোগ দেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেখানে সাধারণ কংগ্রেস কর্মী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে বসে ইফতার সারেন তিনি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।