নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাই-ভোল্টেজ রোড শো-তে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। খাস কলকাতার বুকে বেআইনি জমায়েত এবং দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে স্লোগান-যুদ্ধের জেরে কার্যত ভেঙে পড়েছিল আইনশৃঙ্খলা। এই ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ করে শনিবার রাতে কলকাতা পুলিশের এক ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)-সহ মোট চারজন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল কমিশন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার সকালের মধ্যেই কড়া রিপোর্ট তলব করেছে দিল্লি।
কালীঘাটে স্লোগান-যুদ্ধ ও কমিশনের খাঁড়া:
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতায় চার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে শামিল হয়েছিলেন অমিত শাহ। হাজরা মোড় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই সেই মিছিলে তাল কাটে। রাস্তার ধার থেকে বিজেপি-বিরোধী স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। অভিযোগ, খাস কালীঘাটের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই জমায়েত ‘বেআইনি’ ছিল এবং পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
সাসপেন্ড হওয়া অফিসারদের তালিকা:
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং। এর পরেই রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হয়ে শনিবার রাতে মুখ্যসচিব ও পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত আধিকারিকরা হলেন:
-
সিদ্ধার্থ দত্ত: ডেপুটি কমিশনার (ডিসি-২), দক্ষিণ ডিভিশন।
-
প্রিয়াঙ্কর চক্রবর্তী: অফিসার ইন-চার্জ (ওসি), আলিপুর থানা।
-
চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়: অতিরিক্ত অফিসার ইন-চার্জ, আলিপুর থানা।
-
সৌরভ চৌধুরী: সার্জেন্ট।
রবিবারের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট তলব:
কমিশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়েছে, ওই চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে রবিবার সকাল ১১টার মধ্যে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ডিভিশনের ডিসি এবং আলিপুর থানার খালি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে একের পর এক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচনী সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে ভিভিআইপি সফরের সময় শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে যে সরাসরি কোপ পড়বে পদস্থ কর্তাদের ওপরেই, এই নির্দেশিকা তারই প্রমাণ।