সাতসকালে আলিপুরদুয়ারে গজরাজ হানা, গ্রামে ১৯ হাতির দল ঘিরে হুলস্থুল, সেলফি-শিকারিদের দাপটে বিপাকে বনদফতর
সংবাদদাতা , ২৬ জানুয়ারী – শীতের ভোরে কুয়াশার চাদর সরিয়ে চা-বাগানের নিস্তব্ধতা ভেঙে গ্রামে ঢুকল ১৯টি হাতির একটি বিশাল দল। রবিবার ভোরে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের দক্ষিণ পাটকাপাড়া এলাকায় বুনো হাতির দলের উপস্থিতিতে হাড়কাঁপানো আতঙ্কের সৃষ্টি হয় জনপদে। বনদফতর সূত্রে খবর, দলটিতে একটি হস্তিশাবকও রয়েছে। বিশাল এই পালের আগমনে গ্রামজুড়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন বাসিন্দারা।
বনকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, জলদাপাড়ার চিলাপাতা জঙ্গল থেকেই কালজানি নদী পেরিয়ে এই হাতির দলটি লোকালয়ে ঢুকেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চিলাপাতা ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বনকর্মীরা। আনা হয় বিশেষ ‘ঐরাবত’ যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে আলিপুরদুয়ার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গোটা এলাকাটি ঘিরে ফেলে। তবে হাতি তাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষের অতি-উৎসাহ। পালের ছবি ও ভিডিও তুলতে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমানোর ফলে কাজে বিঘ্ন ঘটে।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পালের ১৬টি হাতি বক্সার পোড়োর জঙ্গলের দিকে ফিরে গেলেও, বিপত্তি বাধে বাকি তিনটি নিয়ে। একটি শাবক-সহ তিনটি হাতি দক্ষিণ পাটকাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত চা বাগানে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ, উৎসাহী জনতার ভিড় ও হইহট্টগোলের কারণেই হাতি তিনটি কার্যত ওই বাগানেই ‘বন্দি’ হয়ে পড়েছে। এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি দোরগোড়ায় হাতির দল। ভয়ে আর বাড়ির বাইরে বেরোতে সাহস পাইনি।” স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, হাতির দলটি এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতি করেনি, তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ না হলে হাতিগুলি খ্যাপাটে হয়ে উঠতে পারে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এডিএফও নভজিৎ দে জানান, “হাতিগুলি চিলাপাতা থেকেই এসেছিল। ১৬টি হাতি নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছে। তবে শাবক-সহ তিনটি হাতি একটি বাগানে আটকে রয়েছে। আমরা নজরদারি চালাচ্ছি।”