নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুরের বামুনাড়া শিল্পতালুকের একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানায় শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। রবিবার সকালে কারখানারই একটি জলের ট্যাঙ্ক থেকে পার্থ দত্ত (২৩) নামে এক কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করে কাঁকসা থানার পুলিশ। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু পরিবারের অভিযোগ এটি পরিকল্পিত খুন।
মৃত পার্থ দত্ত আদতে বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থানার কেদুয়াডিহি গ্রামের বাসিন্দা। গত দু’বছর ধরে বামুনাড়ার ওই ইস্পাত কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি। কারখানার ভেতরে কর্মীদের থাকার ঘরেই থাকতেন পার্থ। পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন বাবা ফটিক দত্ত গত শনিবার কারখানায় ছেলের খোঁজ নিতে এলেও অভিযোগ, তাঁকে গেটের ভেতর ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এর ঠিক পরদিন সকালেই কারখানার জলের ট্যাঙ্কে পার্থর দেহ ভাসতে দেখেন সহকর্মীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শিল্পতালুকের ওই কারখানার নিরাপত্তা ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতারাও। তাঁদের প্রশ্ন, একজন শ্রমিক নিখোঁজ থাকার পরও কেন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি এবং তাঁর বাবাকে কেন ঢুকতে বাধা দেওয়া হলো?
পার্থর পরিবারের দাবি, ছেলে আত্মহত্যা করার মতো ছেলে ছিল না। কারখানার ভেতরে কোনো ঘটনার জেরে তাঁকে মেরে ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। কাঁকসা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ ও সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।