নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে যখন ভোটার তালিকা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই মালদহের হবিবপুরে সামনে এল এক স্তম্ভিত করা ছবি। হবিবপুর ব্লকের আকতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিনোদপুর গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ির শৌচাগার সংলগ্ন আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হলো বস্তাবন্দি শয়ে শয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন সাধারণ মানুষ।

বস্তা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ: মঙ্গলবার চিলাহার এলাকার বাসিন্দা সুশীল টুডুর বাড়ির পাশে দুটি মুখ বাঁধা বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। কৌতূহলবশত বস্তা খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে গিজগিজ করছে সরকারি পরিচয়পত্র। খবর চাউর হতেই শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত এই নথিগুলি এভাবে আবর্জনার স্তূপে ফেলে রাখা কেবল চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়, বরং অপরাধের সামিল। এর ফলে বড় ধরনের জালিয়াতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পিওন-সহকারীর ‘মৌখিক’ চুক্তি: যাঁর বাড়ির সামনে থেকে নথি উদ্ধার হয়েছে, সেই সুশীল টুডু দাবি করেছেন, তিনি সরকারি কর্মী নন। বিনোদপুর ডাকঘরের পিওন হরেশ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে মাসিক ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি ‘মৌখিকভাবে’ চিঠি বিলির কাজ করতেন। সুশীলের দাবি, ওই পিওন বদলি হয়ে যাওয়ার সময় কার্ডগুলি তাঁর কাছে রেখে গিয়েছিলেন। পোস্ট অফিসে জমা দেবেন ভেবেই তিনি সেগুলি বস্তাবন্দি করে শৌচাগারের পাশে সরিয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, পিওন হরেশ চন্দ্র রায় সুশীলকে সাহায্যকারী হিসেবে রাখার কথা স্বীকার করলেও নথি ফেলে রাখার দায় এড়িয়েছেন।

রাজনৈতিক ক্ষোভ ও পুলিশি তৎপরতা: ঘটনার খবর পেয়ে হবিবপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নথিগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। হবিবপুরের বিধায়ক জয়েল মুর্মু এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের অন্দরেও এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, খোদ ডাক বিভাগের নজরদারির অভাব ছাড়া কীভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সরকারি নথি একজন বহিরাগতের হাতে পৌঁছল? পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ডাকবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

Share on Social Media