নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: গত কালই দীর্ঘ বিরতির পর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ ঘিরে চর্চা ছিল পুরসভার অলিন্দে। কিন্তু মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে শাসকদলের এক কাউন্সিলরের ‘বেফাঁস’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা পুরসভা। বিজেপির প্রবীণ কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মীনাদেবী পুরোহিতকে শ্মশানে পাঠানোর টিপ্পনি ঘিরে এদিন হাতাহাতির উপক্রম হয় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় চেয়ারপার্সন মালা রায়ের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ শর্মাকে।
ঘটনার সূত্রপাত এদিন নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের বাজেট বক্তৃতা চলাকালীন। তারকবাবু সিরিটি শ্মশানের আধুনিকীকরণ নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় ট্রেজারি বেঞ্চের পিছন থেকে তৃণমূলের মহেশ শর্মা বলে ওঠেন, ‘মীনাদেবীকে ওই শ্মশানেই নিয়ে যাওয়া হবে!’ জীবন্ত অবস্থায় এক জন প্রবীণ মহিলা কাউন্সিলরকে নিয়ে এই মন্তব্য কানে আসতেই ফেটে পড়েন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ও বিজয় ওঝা। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কক্ষ। দুই শিবিরের কাউন্সিলররা মুখোমুখি চলে আসেন, শুরু হয় প্রবল চেঁচামেচি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় দেবাশিস কুমারের মতো অভিজ্ঞ কাউন্সিলরদের।
ক্ষুব্ধ মীনাদেবী পুরোহিত পরে জানান, ‘ছ’বারের জেতা কাউন্সিলর আমি, প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র। জীবনে এমন কুরুচিকর কথা শুনতে হবে ভাবিনি। আমি জীবিত থাকা অবস্থায় কে শ্মশানে নিয়ে যাবে, সেটা কি মহেশ শর্মা ঠিক করবেন?’ যদিও মহেশবাবু এই ঘটনায় বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। তাঁর সাফাই, ‘আমি ওঁকে মরে যেতে বলিনি, সিরিটির উন্নয়ন দেখতে বলেছি।’ তবে চেয়ারপার্সন মালা রায় সাফ জানিয়ে দেন, এই ধরনের অসংযত মন্তব্য কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেবও এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে অভিযুক্তের ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেছেন।