নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের ভোটার তালিকায় ‘সন্দেহজনক’ নাম ও তথ্যের অসঙ্গতি দূর করতে এবার ময়দানে নামছেন খোদ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতা শুরু করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শনিবার রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সেখানেই স্থির হয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যের জটিলতা কাটাতে কাজ করবেন জেলা ও দায়রা বিচারক থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
শনিবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ডিজি পীযূষ পান্ডে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। সূত্রের খবর, সোমবার থেকেই রাজ্যের প্রায় ১৫০ জন জেলা জজ এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। প্রথমে তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও হাইকোর্ট থেকে অবসর নেওয়া সাতজন প্রাক্তন বিচারপতিকে এই গোটা প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রাখার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
কাজের গুরুত্ব বিচার করে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৯ মার্চ পর্যন্ত কোনও জুডিশিয়াল অফিসার জরুরি প্রয়োজন বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ ছাড়া ছুটি নিতে পারবেন না। এমনকি যাঁরা ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদেরও ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির সমস্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও।
বৈঠক শেষে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক সমস্ত তথ্য কমিশন থেকে সরবরাহ করা হবে। শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত স্ক্রুটিনির কাজ চলার কথা। রবিবারই স্পষ্ট হবে ঠিক কত সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব নিতে হবে বিচারকদের। চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিচারবিভাগের এই সক্রিয়তা রাজ্যে কার্যত বেনজির বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।