নিউজ ডেস্ক: খাস সরকারি আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের মাশুল দিতে হল এক নিষ্পাপ প্রাণকে। শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টারে ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল মাত্র ৪ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার। মৃত শিশুর নাম প্রিয়দর্শিনী বেসরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্বাস্থ্য দপ্তরের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত শিশুর মা শিবানী সোরেন কাটোয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং বাবা সানু বেসরা সীতাহাটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ শিশুটি কোয়ার্টারের ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিল। সেই সময় আচমকাই ছাদের একটি বিশাল চাঙড় সরাসরি তার মাথার ওপর ভেঙে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
বারবার আবেদন সত্ত্বেও মেলেনি সুরাহা
মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, সরকারি কোয়ার্টারটির বেহাল দশা নিয়ে ইতিপূর্বে বারবার স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই সেই আবেদন উপেক্ষা করা হয়েছে। যথাযথ সময়ে মেরামতি হলে এই অকাল মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রিয়দর্শিনীর বাবা-মা। এই ঘটনার পর কোয়ার্টারের অন্যান্য আবাসিকদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁরাও এখন নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
কাটোয়া মহকুমার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌভিক আলম এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কেন দিনের পর দিন অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি। এলাকার মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।