নিউজ ডেস্ক: বিদেশি নাগরিকদের ‘টেক সাপোর্ট’ দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতা, বিধাননগর ও হাওড়া-সহ রাজ্যের ১০টি জায়গায় টানা দু’দিন ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১৫ কোটি টাকা, দেড় কোটি টাকার সোনার গয়না এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। গড়িয়ার বোড়াল থেকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ— সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এই বেআইনি কলসেন্টারগুলির নেপথ্যে পুলিশের একাংশের মদত রয়েছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, এই চক্রের জাল আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। ডার্কওয়েব থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফোন নম্বর কিনে গভীর রাতে চলত কারসাজি। মূলত রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কয়েকশো যুবক-যুবতীকে দিয়ে ভিন দেশে ফোন করানো হতো। টেক সাপোর্টের টোপ দিয়ে লিঙ্ক পাঠিয়ে এক লহমায় হাতিয়ে নেওয়া হতো বিদেশি মুদ্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, একেকটি কলসেন্টার থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হতো।
তল্লাশিতে দেখা গিয়েছে, সল্টলেক বা দুর্গাপুরের এই কলসেন্টারগুলিতে চার শিফটে কাজ চলত। প্রতারণার এই বিপুল টাকা প্রথমে বিভিন্ন ‘ভাড়া নেওয়া’ অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। পরে সেই টাকা তুলে হাওলার মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যেত দুবাইয়ে। সেখানে রিয়েল এস্টেট-সহ বিভিন্ন ব্যবসায় এই কালো টাকা বিনিয়োগ করা হতো বলে প্রাথমিক জেরায় স্বীকার করেছেন কলসেন্টার মালিকরা। লভ্যাংশের একটা বড় অংশ দিয়ে কেনা হতো দেদার সোনার গয়না। শহরের বেশ কিছু নামী জুয়েলারি বিপণি নগদের বিনিময়ে এই গয়না বিক্রি করত বলে ইডির নজরে এখন সেই দোকানগুলিও।
গত ১৬ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ইডি আধিকারিকরা ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ ও বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথি উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৫ কোটি টাকা যে পুরোপুরি জালিয়াতির মাধ্যমেই অর্জিত, তা কার্যত স্পষ্ট। এই আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে আর কোন কোন রাঘববোয়াল যুক্ত এবং দুবাই ছাড়াও আর কোথায় কোথায় এই টাকা খাটানো হয়েছে, এখন তারই হদিস পেতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।