নিউজ ডেস্ক: তুচ্ছ সুপারি গাছ ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বচসা। আর সেই বিবাদের জেরে বড় ছেলের হাতে প্রাণ হারাতে হল জন্মদাতাকে। মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব শালবাড়ি এলাকায় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম শুকলাল মণ্ডল (৫৭)। অভাবনীয় এই ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা, শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রতিবেশী মহলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সুপারি গাছ নিয়ে বড় ছেলে রামনাথ মণ্ডলের সঙ্গে শুকলালবাবুর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই সময় বাড়ির দাওয়ায় ভাত খেতে বসেছিলেন প্রৌঢ়। গণ্ডগোল থামাতে ভাতের থালা ছেড়ে উঠে এসে ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু রামনাথ ও তাঁর স্ত্রী কোনও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন। বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে রামনাথ তাঁর বাবাকে লক্ষ্য করে সজোরে ঘুষি মারেন। সেই আঘাতেই মুহূর্তের মধ্যে সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শুকলালবাবু।
মৃতের মেয়ে প্রমিলা মণ্ডল সূত্রধরের অভিযোগ, “দাদা আর বৌদি মিলে বাবাকে মারধর করছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও সরিয়ে দেয়। বাবা জ্ঞান হারালে আমরা টোটো করে ধূপগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু ডাক্তারবাবুরা শেষরক্ষা করতে পারেননি।” বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী পার্বতী মণ্ডল ও ছোট ছেলে সুশান্ত। সুশান্ত জানান, ঝামেলা থামাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন।
খবর পেয়েই ধূপগুড়ি থানার পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধূপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গিইলসেন লেপচা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সামান্য সুপারি গাছের জন্য এক জন মানুষ তাঁর নিজের বাবার প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা।