নিউজ ডেস্ক: সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় কারাবাসের পর আইনি লড়াইয়ে বড়সড় সাফল্য পেলেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার অসমের একটি বিশেষ আদালত আর্থিক তছরুপের মামলায় তাঁর শর্তসাপেক্ষ জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। এর আগে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতও সারদার একটি মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল। তবে জোড়া জামিন মিললেও এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না দেবযানী মুখোপাধ্যায়।
বর্তমানে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন দেবযানীদেবী। জেল থেকেই ভিডিও কনফারেন্সিং বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি চলে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে সওয়াল করেন যে, দীর্ঘ ১১-১২ বছর ধরে তাঁদের মক্কেল জেলবন্দি রয়েছেন। মামলার চার্জশিট জমা হয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এই মানবিক দিকগুলি বিবেচনা করেই আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে।
জামিন মিললেও কেন কাটছে না কারাবাস?
এদিন দেবযানীর দুই আইনজীবী শুভজিৎ বল ও আকাশ বল সাংবাদিকদের জানান, অসমে জামিন মিললেও কারামুক্তির পথে এখনও কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে:
-
অন্যান্য মামলা: দেবযানীর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশায় আরও বেশ কয়েকটি অর্থলগ্নি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
-
প্রক্রিয়া: সেই সমস্ত মামলায় এখনও জামিন না মেলায় তাঁকে আপাতত জেলেই থাকতে হবে। ওই মামলাগুলিতে জামিন পাওয়ার পরই তিনি সংশোধনাগার থেকে বেরোতে পারবেন।
-
সিবিআই-এর বিরোধিতা: সিবিআই অবশ্য এই জামিনের কড়া বিরোধিতা করেছিল। তাদের দাবি ছিল, দেবযানী বাইরে বেরোলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিচারক সেই যুক্তি খারিজ করে দেন।
সারদা কাণ্ডে সুদীপ্ত সেনের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত দেবযানী মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালে কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তারপর থেকে ওড়িশা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলে তাঁকে থাকতে হয়েছে। সাম্প্রতিক এই জামিন তাঁর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন তাঁর আইনজীবীরা। তাঁরা আশাবাদী, বাকি মামলাগুলিতেও দ্রুত আইনি সুরাহা মিলবে।