নিউজ ডেস্ক: ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া এক বাংলাদেশি মহিলার জামিন এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে (CAA) তাঁর আবেদনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল বনগাঁর রাজনীতি। নিম্ন আদালতের ‘পুশ ব্যাক’ বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর, ওই মহিলা জামিন পেয়েই সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। লোকসভা ভোটের মুখে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি যখন ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন তৃণমূল একে ‘ভোটের ভাঁওতা’ বলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা শম্পা সরকার (২৭) বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে আসেন এবং বনগাঁর চাঁদা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি ভারতেই থেকে যান। অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলে নিম্ন আদালত তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় এবং গত ২৬ মার্চ তিনি জামিন পান।
সিএএ-র প্রয়োগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ:
শান্তনু ঠাকুরপন্থী মতুয়া মহাসংঘের সহযোগিতায় শম্পা সরকার ইতিমধ্যেই সিএএ-র পোর্টালে নাগরিকত্বের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওপার বাংলায় ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়েই তিনি এ দেশে আশ্রয় চেয়েছেন।
-
বিজেপির দাবি: জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষের মতে, কেন্দ্রীয় আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যারা এ দেশে এসেছেন, তাঁদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও পুলিশি পদক্ষেপ করা যাবে না। শম্পার জামিন প্রমাণ করে যে এই আইন উদ্বাস্তুদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম। বনগাঁ মহকুমায় ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার মতুয়া নাম বাদ যাওয়ায় বিজেপি যে চাপে ছিল, এই ঘটনাকে সামনে রেখে তারা সেই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করছে।
-
তৃণমূলের পাল্টা তোপ: জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস অভিযোগ করেছেন, বিজেপি চক্রান্ত করে মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এখন ভোটের আগে সিএএ-র গল্প শুনিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এনআরসি বা সিএএ আদতে উদ্বাস্তুদের ভিটেমাটিহীন করার চক্রান্ত বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মতুয়াদের ভবিষ্যৎ ও ড্যামেজ কন্ট্রোল:
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর আগেই জানিয়েছিলেন যে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের সিএএ-তে আবেদন করতে হবে। শম্পা সরকারের এই আইনি জয়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি এখন মতুয়া ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাইছে। তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, শম্পা সরকার ২০২৪ সালে ভারতে এসেছেন, অথচ আইনের সুবিধা পেতে হলে তাঁকে ২০১৪ সালের আগের নথি দেখাতে হবে— সে ক্ষেত্রে আবেদনটি আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে বনগাঁ সীমান্তে নাগরিকত্বের এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।