নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের নজিরবিহীন তাণ্ডবে বৃহস্পতিবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কোদালিয়া এলাকা। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ওই যুবক কখনও অটো, আবার কখনও গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে ধরতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায় সোনারপুর থানার পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের নাম রিয়াজউদ্দিন গাজি, বাড়ি মগরাহাটে। বুধবার রাতে কালিকাপুর এলাকায় তাঁকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে চোর সন্দেহে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকেই চম্পট দেন রিয়াজউদ্দিন। এরপরই শুরু হয় তাঁর ‘অ্যাকশন ড্রামা’। পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে ছুড়তে তিনি রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। একটি অটো থামিয়ে চালককে মারধর করে সেই অটো নিয়েই পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পথে দুই পথচারীকে ধাক্কা মারলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
উন্মাদের মতো অটো চালিয়ে রিয়াজউদ্দিন ঢুকে পড়েন একটি গ্যাস এজেন্সির গোডাউনে। সেখানে সিলিন্ডার ভর্তি একটি ট্রাক স্টার্ট দিয়ে চালানোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও জনতা তাঁকে ঘিরে ফেলে। ট্রাক থেকে নেমে ফের পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে ধরে গণধোলাই দেয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, রিয়াজউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে এদিন বিকালেই তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।