নিউজ ডেস্ক: সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুত্বের আড়ালে ঘনিয়ে ওঠা প্রেম, আর তার পরিণতিতে চরম প্রতারণা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক যুবককে গ্রেপ্তার করল কালীঘাট থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মরিস জেমস। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক ওই তরুণীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিল। শেষরক্ষা হয়নি, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে নদিয়ার রানাঘাট থেকে তাকে জালে তুলেছে তদন্তকারীরা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপ জমায় মরিস। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তরুণীর বিশ্বাস অর্জন করে সে। কথাবার্তা গড়াতে শুরু করলে শুরু হয় ভিডিও কল এবং নিয়মিত যোগাযোগ। পুলিশি বয়ানে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গত দেড় মাসে দীঘা-সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে মরিস।
শুধু শারীরিক হেনস্থাই নয়, ব্যবসার নাম করে ওই তরুণীর কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় দু’লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত। সম্প্রতি আরও টাকার দাবি করায় তরুণী অসম্মতি জানান। এর পরেই সুর বদলায় মরিসের। তরুণীর ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শুরু করে সে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত মরিস আসলে পেশায় একটি হোটেলের রাঁধুনি। কেবল এই তরুণীই নয়, সামাজিক মাধ্যমে একাধিক যুবতীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতানোই ছিল তার আসল কারসাজি। রবিবার রাতে রানাঘাট এলাকায় হানা দিয়ে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা রুজু করা হয়েছে। অতীতেও সে এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।