নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে বারাসত, বসিরহাট ও বনগাঁর মোড়ে মোড়ে চলছে কড়া ‘নাকা চেকিং’। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অন্যদিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ—লক্ষ্য একটাই, বেআইনি টাকা বা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। কিন্তু তল্লাশির সেই গুরুগম্ভীর মেজাজ কার্যত শিকেয় উঠেছে আমজনতার বিচিত্র সব আবদারে। ‘স্বামী রাগ করে লুঙ্গি পরে সিগারেট খেতে বেরিয়ে আর ফেরেনি’ থেকে শুরু করে ‘মেয়ের পড়ার থেকে ফিরতে দেরি’—ব্যক্তিগত হাজারো সমস্যার সমাধান পেতে নাকা পয়েন্টে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে দুষ্কৃতী ধরা ছেড়ে এখন ‘নিখোঁজ’ স্বামী বা হারানো ব্যাগ খোঁজার চাপে মাথায় হাত আইনরক্ষকদের।
উত্তর ২৪ পরগনার ১৮টি বিধানসভা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে বসানো হয়েছে এই নাকা পয়েন্ট। প্রতিটি পয়েন্টেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। আর এই ক্যামেরাই এখন পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, যেহেতু ক্যামেরা লাগানো আছে, তাই এখান থেকেই লাইভ ফুটেজ দেখে নিমিষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে অবাধ্য স্বামী বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল।
নাকা পয়েন্টে আসা কিছু বিচিত্র ‘কেস’:
-
দত্তপুকুর: এক ভদ্রলোক হন্তদন্ত হয়ে এসে আবেদন জানালেন, তাঁর মেয়ে লাল সালোয়ার পরে পড়তে গিয়েছিল, এখনও ফেরেনি। ক্যামেরায় দেখে যদি পুলিশ একটু বলে দেয় সে কোন দিকে গিয়েছে!
-
বারাসত: এক মহিলা ছুটে এসে জানালেন, স্বামী রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর স্বামীর গতিবিধি ট্র্যাকিং করার অনুরোধ তাঁর।
-
অন্যত্র: জনৈক গৃহবধূর আরজি, “স্যার, ও লুঙ্গি পরে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বেরিয়েছে, রাত হয়ে গেল ফিরছে না। একটু খুঁজে দিন না গো!”
ফুটেজ দেখার আইনি জটিলতা:
পুলিশ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, আমজনতা সিসিটিভি ক্যামেরাকে জাদুর কাঠি মনে করলেও বাস্তবটা অন্য। নাকা পয়েন্টে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হাতে সেই ফুটেজ দেখার কোনও অধিকার বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা থাকে না। ১. আবেদন প্রক্রিয়া: সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে হলে নির্দিষ্ট বিধিতে এসডিও (SDO) বা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে হয়। ২. সময়সাপেক্ষ: এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। তৎক্ষণাৎ মোড়ে দাঁড়িয়ে ফুটেজ দেখা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। ৩. উদ্দেশ্য: এই ক্যামেরাগুলি মূলত বসানো হয়েছে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ বা সন্দেহভাজন গতিবিধি নজরদারির জন্য, ব্যক্তিগত হারানো-প্রাপ্তি খোঁজার জন্য নয়।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় অন্তত চারটি করে প্রধান নাকা পয়েন্ট রয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলে। কিন্তু মানুষের এই ব্যক্তিগত আবেগ আর ছোটখাটো সমস্যার চাপে ব্যাহত হচ্ছে আসল প্রশাসনিক কাজ। পুলিশের বিরক্তি চরমে উঠলেও, ভোট মরশুমে আমজনতাকে ‘না’ বলাও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।